Homeএই মুহুর্তেপ্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আলোচনায় নতুন গতি

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আলোচনায় নতুন গতি

প্রাইম ভিশন ডেস্ক

নতুন করে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর। প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করা না হলেও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে তিনি শিগগিরই ভারত সফরে যাচ্ছেন– এমন কথা বলা হচ্ছে। সরকারের দায়িত্বশীল একজন প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘আমরা নয়াদিল্লিকে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছি। এরই মধ্যে ভারত কিছু শর্ত ইতিবাচকভাবে নিয়েছে।’

চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিতর্ক থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও আউটলুক। তারা দাবি করছে, তারেক রহমান ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে থাকতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাড়াহুড়ো করে নয়; বরং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা এবং সম্মানজনক আমন্ত্রণ প্রস্তাবের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হতে পারে।

হুমায়ুন কবির বললেন, ‘আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে গুঞ্জন থাকলেও সুনির্দিষ্ট জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখে বাংলাদেশ এ মুহূর্তে কোনো তাড়াহুড়ো না করার নীতি গ্রহণ করেছে।’

‘তবে দুদেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে ঢাকা ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করবে’— যোগ করেন তিনি।

‘অনুকূল পরিবেশ’ কীভাবে তৈরি হতে পারে, সে বিষয়ে সরাসরি কিছু তিনি বলেননি। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত শেখ হাসিনা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ফেরত পাঠাতে হবে।

হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘দুদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের শীর্ষপর্যায়ের সফরের বিষয়টি ভারতের বর্তমান নেতৃত্বের মাইন্ডসেট (মানসিকতা) বা দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করছে। দেড় হাজারের বেশি মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতাকে প্রতিবেশী দেশকে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে হবে।’

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম দিল্লি সফর নিয়ে প্রতিবেশী দুদেশের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলছে। গতকাল শুক্রবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, সফর নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বলার মতো কোনো মন্তব্য নেই।

এদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সেটি আবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ঘিরে টানাপড়েন এবং তারেক রহমানের সফর ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে গতকাল ভারতের এমন কাণ্ড নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ছয় মাস আগে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমানের সরকার শুরু থেকেই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে দুদেশের মধ্যে আলোচনা চলার মধ্যে গত সপ্তাহে ঢাকা ইঙ্গিত দিয়েছিল, সফরের জন্য আরও অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন।

ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদির সরকার। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসের আয়োজনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বক্তব্যে ব্রিকসের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। গত ১৪ আগস্ট ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছিল, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ২২-২৩ অাগস্ট; অর্থাৎ, ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ঠিক এক সপ্তাহ পর।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে শুরু করে।

ঢাকার সরকারি সূত্রগুলো তখন বলছিল, প্রতিবেশী দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরের জন্য নীরবে হলেও নিশ্চিতভাবেই প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছিলেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে আগামী ২৭ বা ২৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত সফরে যোগ দেবেন।

এর মধ্যে গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকারকে বিষোদ্‌গার করেন ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা। শুধু তাই নয়, ডিসেম্বরেই তিনি দেশে ফিরবেন বলেও আবার ঘোষণা দেন।

শেখ হাসিনাকে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ হয় ঢাকা। সেদিন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোর পর ঢাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরে অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং শেখ হাসিনা ও শরিফ ওসমান হাদি হত্যার দুই আসামির প্রত্যর্পণের শর্ত দেয়। এরপর ভারতের পক্ষ থেকে বারবার সফরের ওপর গুরুত্বারোপ করে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে এখনো সায় দিচ্ছে না ঢাকা। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, একটা ইস্যুতে (শেখ হাসিনা) দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীর সম্পর্ক আটকে থাকা উচিত নয়। দুদেশের মধ্যে আলোচনা ও দরকষাকষির আরও অনেক ইস্যু আছে সেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করছেন, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু যেমন সীমান্ত সমস্যা, পানি বণ্টন, ইনফরমাল অর্থনীতি, বাণিজ্য বৈষম্যসহ আরও অনেক দিক রয়েছে আলোচনার। প্রধানমন্ত্রী যদি সফরে না যান, তাহলে কোনো ইস্যুরই সমাধান হবে না বলে তিনি মনে করেন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়