Homeএই মুহুর্তেআগামী ১৮ নভেম্বর চবির হীরকজয়ন্তী

আগামী ১৮ নভেম্বর চবির হীরকজয়ন্তী

চবির হীরকজয়ন্তী উপলক্ষ্যে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম উদ্বোধন ও সংবাদ সম্মেলন

আগামী ১৮ নভেম্বর ২০২৬ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ বছর পূর্তিতে হীরকজয়ন্তী উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন এবং সংবাদ সম্মেলন আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) বিকাল ৪টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভি.আই.পি কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য ও হীরকজয়ন্তী আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। এসময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম। এলামনাই প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন চবি সিনেট সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আসলাম চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড মোহাম্মদ আল্-ফোরকান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য বলেন, ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধির বিকাশ, সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং প্রগতিশীল চিন্তার এক অনন্য কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

মাননীয় উপাচার্য বলেন, উচ্চশিক্ষার প্রসার ও গবেষণার বিকাশেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে জীববিজ্ঞান, সমুদ্রবিজ্ঞান, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আধুনিক গবেষণা অবকাঠামোর বিকাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হীরকজয়ন্তী উদ্‌যাপনের মধ্য দিয়ে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেলবন্ধন আরও দৃঢ় হোক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্জন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি আগামী দিনের জন্য একটি জ্ঞানভিত্তিক, গবেষণানির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত হোক।

হীরকজয়ন্তীর অনুষ্ঠানমালা সফল করতে সকল এলামনাই ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শুভানুধ্যায়ীদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানান মাননীয় উপাচার্য। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের সম্মানিত প্রতিনিধিদের লেখনী ও প্রচারের মাধ্যমে এই আয়োজনের বার্তা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি।

মাননীয় উপাচার্য বলেন, আজ আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গৌরবের একটি মুহূর্ত। আগামী ১৮ নভেম্বর ২০২৬ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমরা হীরকজয়ন্তী উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। এই মাহেন্দ্রক্ষণকে সামনে রেখে আজ হীরকজয়ন্তীতে অংশগ্রহণের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঐতিহাসিক উদ্‌যাপনকে সফল ও স্মরণীয় করে তুলতে আমরা সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

অনুষ্ঠানে চবি সিনেট সদস্য ড. মোহাম্মদ মনজুর-উল-আমিন চৌধুরী ও অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. এম. আবদুল গফুর, অনুষদসমূহের ডিনবৃন্দ, বিভিন্ন হলের প্রভোস্টবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগ/ইনস্টিটিউটের সভাপতি/পরিচালকবৃন্দ, কলেজ পরিদর্শক, প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক, হীরকজয়ন্তী আয়োজক কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, কমিটির সদস্য সচিব চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ হাছান মিয়া এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দসহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এলামনাই, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শুভানুধ্যায়ী উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়