প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
পানিপ্রবাহের দিক দিয়ে পৃথিবীতে আমাজন নদীর পরই অবস্থান পদ্মার। প্রমত্ত এই নদীতে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু নির্মাণ বাংলাদেশের সাফল্য। ২৫ জুন উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা পদ্মা সেতু কয়েকটি ক্ষেত্রে বিশ্বে রেকর্ড করেছে।
পাইলের গভীরতা
খরস্রােতা পদ্মায় মাটির ১২০-১২৭ মিটার গভীরে গিয়ে বসানো হয়েছে পদ্মা সেতুর পাইল। এর আগে পৃথিবীর অন্য কোনো সেতুর জন্য এত গভীরে গিয়ে পাইল বসাতে হয়নি। তা একটি রেকর্ড।
১০ হাজার টনের বিয়ারিং
পদ্মা সেতুতে ব্যবহৃত ‘ফ্রিকশন পে-ুলাম বিয়ারিং’য়ের সক্ষমতা ১০ হাজার টন। এখন পর্যন্ত কোনো সেতুতে এমন সক্ষমতার বিয়ারিং লাগানো হয়নি। ফলে রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে টিকে থাকার মতো সক্ষমতা রয়েছে এ সেতুর। এ ছাড়া এই সেতুতে ব্যবহৃত একেকটি বিয়ারিংয়ের ওজন ১০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। পৃথিবীতে এর আগে কোনো সেতুতে এমন বড় বিয়ারিং ব্যবহার করা হয়নি।
সর্ববৃহৎ ক্রেন
পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রেন ব্যবহার করা হয়েছে। পিলারের ওপর স্প্যান বসাতে যে ক্রেনটি ব্যবহৃত হয়েছে, সেটি এসেছিল চীন থেকে। প্রতি মাসে এর ভাড়া বাবদ গুনতে হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। ক্রেনটি বাংলাদেশে ছিল প্রায় সাড়ে তিন বছর। এ জন্য মোট খরচ হয়েছে ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বিশ্বে প্রথম কোনো সেতু তৈরিতে এত দীর্ঘদিন ক্রেনটি ভাড়ায় থেকেছে। এ ক্রেনটির দাম ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
ব্যবহৃত হয়েছে কংক্রিট ও স্টিল : পৃথিবীতে এই প্রথম কোনো সেতু নির্মাণে কংক্রিট ও স্টিল- উভয়ই ব্যবহৃত হয়েছে। বিশ্বে আর কোনো সেতু নির্মাণে কংক্রিট ও স্টিলের ব্যবহার একসঙ্গে দেখা যায়নি। অর্থাৎ সেতুগুলো হয় কংক্রিটে নির্মিত, না হয় স্টিলের।
ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমির দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু
ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমিতে নির্মিত দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু পদ্মা সেতু। ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমির মধ্যে রয়েছে ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকা, পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চল, বাংলাদেশ ও নেপালের দক্ষিণাঞ্চল। বর্তমানে ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমির দীর্ঘতম সেতুটি হচ্ছে ভারতের আসামের ভূপেন হাজারিকা সেতু। এটি বাংলাদশের ব্রহ্মপুত্রের শাখা লোহিত নদীর ওপর নির্মিত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। এই সেতু ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের সঙ্গে অরুণাচলকে যুক্ত করেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে গভীরতম পাইলের সেতু
পদ্মা সেতু বিশ্বের সবচেয়ে গভীরতম পাইলের সেতু। পাইল হচ্ছে মাটির গভীরে বসানো ভিত্তি। সর্বোচ্চ ১২২ মিটার গভীর পর্যন্ত গেছে এই সেতুর অবকাঠামো। সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে বিশ্বে এটি এক অনন্য সংযোজন। এ রকম আরও বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে এই সেতু বিশ্বজুড়ে প্রকৌশলবিদ্যার পাঠ্যবইয়ে ঠাঁই করে নেবে বলে মনে করছেন প্রকৌশল বিশেষজ্ঞরা।


