প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
সুগন্ধি ব্যবহার করার নিয়ম-রীতি কমবেশি আমাদের সবারই জানা। কিন্তু কীভাবে সুগন্ধি মাখা হলে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং ঘ্রাণ ছড়াবে ঠিক প্রথমবার স্প্রে করার মতোই সেটা অনেকেরই অজানা। আসুন জেনে নিই তেমনই কিছু বিষয়, যা আপনার সুগন্ধি ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় যোগ করবে ভিন্ন মাত্রা।
স্নানের পর
শৌখিন মানুষমাত্রই সুগন্ধির প্রেমে পড়েন প্রতিনিয়ত। আপনার প্রিয় সুগন্ধিটি সারাক্ষণ উপস্থিতি জানান দিক- এমনটা যদি আপনার চাওয়া হয়ে থাকে তাহলে স্নানের পরপরই ব্যবহার করুন পছন্দের সুগন্ধিটি। অনেকেই পারফিউম অয়েল বা সুগন্ধি তেল ব্যবহার করে থাকেন। সেক্ষেত্রে গোসলের পর ভালোভাবে শরীর মুছে কয়েক ফোঁটা তেল গায়ে মেখে নিন। দীর্ঘ সময় সুঘ্রাণ ধরে রাখতে খেয়াল রাখুন শরীরে যাতে ভেজা ভাব না থাকে। অর্থাৎ শরীর পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে তবেই মেখে নিন সুগন্ধি।
ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে
ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে প্রতিদিন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের বিকল্প নেই। আপনি যদি সুগন্ধিপ্রেমী হন এবং সারাক্ষণ মন ডুবে থাকুক সুঘ্রাণে, এমনটা চাইলে নিয়মিত ব্যবহারের ময়েশ্চারাইজার ক্রিম বা লোশন গায়ে মাখার পর ব্যবহার করুন পছন্দের সুগন্ধিটি। এভাবে সুগন্ধি ঘ্রাণ ছড়াবে দীর্ঘসময়। এ ছাড়া ঘ্রাণবিহীন লোশনের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন প্রিয় পারফিউমটি। এবার সে মিশ্রণটি গায়ে মেখে নিন ভালোভাবে। ব্যস, প্রিয় ঘ্রাণে সারাদিন থাকবেন সুরোভিত।
কবজিতে পেট্রোলিয়াম জেলি
ভীষণ শুষ্ক ত্বকে সুগন্ধি যেন থাকতেই চায় না বেশিক্ষণ। কিন্তু সমাধান দিতে পারে পেট্রোলিয়াম জেলি। বেশিক্ষণ সুগন্ধি টিকিয়ে রাখতে পালস পয়েন্ট বা কবজিতে পারফিউম স্প্রে করার আগে একটু পেট্রোলিয়াম জেলি মেখে নিন। তৈলাক্ত ত্বক সুগন্ধি ধরে রাখে অনেকটা সময়।
স্থান নির্বাচন
মনে হতে পারে সুগন্ধি কোথায় মাখতে হবে, এটার আবার কোনো নিয়ম আছে নাকি! অবাক লাগলেও সত্যি যে যথাযথ স্থানে সুগন্ধি ব্যবহার করা গেলে এ ঘ্রাণ দীর্ঘস্থায়ী হয় আপনাতেই। বলা হয়ে থাকে পালস পয়েন্ট বা কবজি সবচেয়ে ভালো জায়গা সুগন্ধি ব্যবহারের জন্য। কেননা, এখানেই কেবল ধমনি খুব কাছাকাছি থাকে ত্বকের এবং এখানেই শুধু আমরা নিজেদের হৃৎস্পন্দন টের পাই। এ অংশটি বেশ উষ্ণ। এ উষ্ণতা যেকোনো সুগন্ধির ঘ্রাণকে তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে। ফলে এ স্থানটিকে ধরা হয়ে থাকে সুগন্ধি ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।
এছাড়া বেশ কিছু স্থান যেমন- কানের পেছনে, গলার পেছনে, কনুইয়ের ভাঁজে এমনকি চুলেও সুগন্ধি ব্যবহার করলে ঘ্রাণ টিকে থাকে অনেকক্ষণ।
ভুলে যাওয়া বারণ
সুগন্ধির ঘ্রাণ বেশিক্ষণ টিকিয়ে রাখতে কিছু কাজ একদমই করা যাবে না। কবজিতে সুগন্ধি স্প্রে করার পর কখনোই দুই কবজি ঘষবেন না। এভাবে ঘষার কারণে সুগন্ধির টপ নোটটি হারিয়ে যায় দ্রুত। ফলে সঠিক সুঘ্রাণ পাওয়া যায় না।
কাপড় কিংবা অলংকারের ওপর ভুলেও সুগন্ধি স্প্রে করা যাবে না। এতে সুগন্ধিটি যেমন ঘ্রাণ ছড়াতে ব্যর্থ হবে তেমনি পরিধেয় জামা কিংবা অলংকারের ওপর দাগ ফেলবে।
ত্বকের ওপর সরাসরি পারফিউম স্প্রে করা যাবে না। অন্তত ৫-৭ ইঞ্চি দূর থেকে স্প্রে করুন।


