প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
যুক্তরাষ্ট্রের একটি নাইটক্লাবে রবিবার রাতে এক বন্দুকধারীর গুলিতে ৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২ জন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
চলতি বছর ১ মে পর্যন্ত দেশটিতে গোলাগুলিতে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে। অর্থাৎ ২০২৩ সালে দেশটিতে গোলাগুলিতে দৈনিক গড়ে ১১৫ জন নিহত হয়েছে।
সর্বশেষ গোলাগুলি সম্পর্কে সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার (২১ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে দেশটির মিসৌরি রাজ্যের কানসাস শহরের নাইটক্লাব ক্লাইম্যাক্স লাউঞ্জে ওই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, রবিবার রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে আমরা একটা ফোন কল পাই। এতে ক্লাইম্যাক্স লাউঞ্জে গোলাগুলির কথা আমাদের জানানো হয়। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।
তারা ঘটনাস্থলে পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ দেখতে পান। গুলিবিদ্ধদের দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। বাকি তিনজনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আরেক জনের মৃত্যু হয়। বাকি দুইজনের মধ্যে একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। আরেক জনের অবস্থা স্থিতিশীল।
সংবিধান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্ত বয়স্করা সঙ্গে সবসময় অস্ত্র রাখতে পারেন। তাই দেশটিতে গোলাগুলি একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তবে চলতি বছর তা রীতিমতো ‘মহামারী’ আকার ধারণ করেছে।
চলতি বছরের শুরু থেকে ১ মে পর্যন্ত দেশটিতে গোলাগুলিতে অন্তত ১৩ হাজার ৯৫৯ জন নিহত হয়েছে। অর্থাৎ দেশটিতে চলতি বছর দৈনিক গড়ে ১১৫ জন গুলিতে নিহত হয়।
নিহতদের মধ্যে কিশোর ৪৯১ জন। আর শিশু ৮৫ জন। দেশটির গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের বরাতে এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। বিশাল আয়নের দেশটির সিংহভাগ গোলাগুলির খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আসে না।
এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক বছরে আত্মহত্যা যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ আকার ধারণ করে ছিল। চলতি বছর গোলাগুলি সেটাকে হার মানিয়েছে। চলতি বছর দেশটিতে দৈনিক গড়ে ৬৬ জন আত্মহত্যা করেছে। অন্যদিকে গুলিতে নিহত হয়েছে তার প্রায় দ্বিগুণ, ১১৫ জন
চলতি বছর গোলাগুলির ঘটনা বাড়ায় অস্ত্র আইন কড়াকড়ি করার জন্য সরকারের ওপর যথারীতি নতুন করে চাপ বাড়ে।
বলা হয়ে থাকে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অস্ত্র আইন কড়াকড়ির পক্ষে। বাইডেনসহ দলটির শীর্ষ নেতাদের অস্ত্র আইন কড়াকড়ির পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলতেও শোনা গেছে।
অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি অস্ত্র আইন কড়াকড়ির বিপক্ষে। তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে প্রায় সময় চুপ থাকেন। বরং মাঝেমধ্যে তারা অস্ত্র সহজ করার পক্ষে কথা বলেন।
কিন্তু তৃতীয় মত হলো, সারা বিশ্বের মতো যুক্তরাষ্ট্রেও অস্ত্র ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ব্যবসায়ীদের লবি অত্যন্ত শক্তিশালী। ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান উভয় পার্টির মধ্যে অস্ত্র ব্যবসায়ীদের বিশাল প্রভাব রয়েছে। তাই কোনো পার্টির শীর্ষ নেতারা চাইলেও সহজে অস্ত্র আইন কড়াকড়ি করা যাচ্ছে না।
এ অবস্থায় চাপ বাড়া সত্ত্বেও ব্যবসায়ীদের পাশ কেটে দেশটিতে অস্ত্র আইন সংস্কার করা যাচ্ছে না।
‘আমেরিকায় গেলে সতর্ক থাকা উচিত’
গতকাল (২১ মে) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকাসহ সারা দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরার পরামর্শ দিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।
নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধী দলগুলো যে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে, তা আরও ‘তীব্রতর’ হতে পারে এবং যেকোনো মুহূর্তে ‘সহিংসতায়’ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে দেশটির নাগরিকদের সতর্ক থেকে চলতে বলা হয়েছে।
সতর্কতা বার্তায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য জারি করা ওই সতর্কবার্তা ঢাকা এবং বাংলাদেশের অন্য শহরগুলোর জন্যও প্রযোজ্য হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোমেন বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক। নির্বাচন হবে আরও সাত-আট মাস পর। তাদের জিজ্ঞেস করেন তারা কেন এ সতর্কতা দিল। আমাদের দেশে হত্যা নেই, গুলি করে কাউকে মারা হয় না।
এখানকার মানুষ মার্কিন নাগরিকদের ওপর ক্ষেপবে কেন? আমি জানি না, তারা কেন এটা করেছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এত ভালো হয়েছে যে পুলিশ কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীকে ধরে নিয়ে আসে।’
এখন বরং আমেরিকায় ভ্রমণে গেলে সতর্ক থাকা উচিত বলে মনে করেন মন্ত্রী আবদুল মোমেন। বলেন, ‘তারা (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) খুব ভালো কাজ করছে। আমাদের দেশে এমন কোনো কারণ নেই যে সহিংসতা হবে। বরং কেউ কেউ আমেরিকায় গেলে সতর্ক করা উচিত; সেখানে শপিং মলে, স্কুলে, বারে গেলে সতর্ক থাকতে হবে।’


