প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
জাতীয় সংসদে হাটহাজারীর মানুষের সম্প্রীতি, ঐতিহ্য তুলে ধরেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি যে এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী এবং সংবেদনশীল একটি সংসদীয় আসন। যেটি ধারণ করছে হাটহাজারী মাদরাসার মতো একটি বড় দ্বীনি প্রতিষ্ঠান, একই সাথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং লোকনাথ সেবাশ্রমের মতো অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী কিছু প্রতিষ্ঠান আমাদের এখানে আছে।
মাননীয় স্পিকার, বাইর থেকে কী মনে হয় আমি জানি না। কিন্তু হাটহাজারীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যে রাজনৈতিক কনসেপ্ট বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ তথা রংধনু জাতি গঠনের যে প্রত্যয় আমাদের রয়েছে এটির একটি অনন্য উদাহরণ হচ্ছে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ)।
আমি আপনার মাধ্যমে সকল সংসদ সদস্যকে বলতে চাই। এই যে ঐতিহ্যবাহী হাটহাজারী মাদরাসার কথা বললাম ঠিক তার পাশেই দীর্ঘদিন প্র্যাকটিসিং কালী মন্দির আছে।
তারা সেইম বাউন্ডারি ওয়াল শেয়ার করে। তাদের দোকানগুলো একই সাথে। কিন্তু আজকের দিন পর্যন্ত সেখানে কোনো ধরনের অস্বস্তিকর পরিবেশ বা কোনো বৈরী পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। এটি একমাত্র সম্ভব হয়েছে আমাদের দলের যে রাজনৈতিক দর্শন সেটি আমরা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি। একই সাথে এলাকাবাসী যারা হাটহাজারী ও বায়েজিদের জনগণ আছেন উনারাও আমাদের সহায়তা করেছেন যেন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে থাকতে পারি।
এ কথাগুলো বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে মাননীয় স্পিকার, আমরা বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্ম গোত্র বর্ণের মানুষ আছি। মাননীয় সংসদ নেতা আমাকে একটি এডিশনাল দায়িত্ব দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম। সেই পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১টি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী, বাংলা ভাষাভাষীসহ ১২টি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সহাবস্থান আছে। আমরা চেষ্টা করছি বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলের নেতৃত্বাধীন যে সরকার গঠিত হয়েছে সেই সরকারের যে মূলনীতি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ অর্থাৎ ওই এলাকার সকল ধর্ম বর্ণ গোত্রের মানুষের জীবনযাত্রার মান সমভাবে উন্নয়ন করে আমরা যেন সেই এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে আমরা যেন আরও দৃঢ়ভাবে কাজ করতে পারি সে ব্যাপারে সর্বদা সচেষ্ট আছি।
ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ভূমি মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে। বিশেষ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ে ২৪ ঘণ্টা ৭ দিন সেবা বা কল সার্ভিস চালু আছে। যেটিতে আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে রাত তিনটা বা ভোর চারটায় ফোন করে দেখেছি সেবার মান কেমন। আমি নিশ্চিত করছি যেকোনো সময়ের চেয়ে সেবার মান অত্যন্ত ভালো। ভূমি সেবার অ্যাপ আবিষ্কার করেছি। এর মাধ্যমে ফিজিক্যালি গিয়ে যে কাজ করতে হতো তা ডিজিটালি হচ্ছে।
তরুণ প্রজন্মকে দেশের বর্তমান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে মীর হেলাল বলেন, ‘তাদের চোখে যে স্বপ্ন, সেটাই আগামী বাংলাদেশের রূপরেখা। আমরা যদি তাদের জন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ, সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে তারা বাংলাদেশকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। আমি বিশ্বাস করি বিভাজন নয়, ঐক্যই আমাদের তরুণদের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।’
সংসদ অধিবেশনের পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পার্লামেন্ট শুড রিমেইন এ প্লেস ফর কনস্ট্রাকটিভ ডিবেট, নট ডিস্ট্রাকটিভ কনফ্রন্টেশন। আমরা বিভিন্ন জাতীয় ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডিবেট করব। কিন্তু আমাদের মূল মন্ত্রটা হচ্ছে, যাতে আমরা আমাদের দেশের গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে পারি।’
বক্তব্যের শেষে মীর হেলাল বলেন, ‘যতগুলো গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, সেই স্পিরিটটা যদি আমরা ধারণ করতে পারি, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে যদি দেশের উন্নয়নে নিজেকে আত্মনিয়োগ করি, অবশ্যই পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ একটি উজ্জ্বল উন্নত দেশ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে।’


