প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে বিভিন্ন সংস্কার শর্ত ও ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের শর্তগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের রূপরেখার বড় ধরনের কোনো দ্বিমত নেই। নীতি বাস্তবায়নে কিছু ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রম অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হলেও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই এসব পার্থক্য সমাধান করা সম্ভব।
আজ সোমবার বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব আশাবাদের কথা শোনান।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট চূড়ান্ত করার কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এর মাধ্যমে আগামী দিনের সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নির্ধারিত হবে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেল ও গ্যাসের চড়া দামের কারণে জ্বালানি খাতে যে বাড়তি খরচ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের রুটিন সাপোর্টের পাশাপাশি একটি ঋণ পাওয়া যাবে বলে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অর্থমন্ত্রী জানালেন, আইএমএফের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই সেগুলো পরিমার্জন করা সম্ভব। একসঙ্গে অনেকগুলো সংস্কার চাপিয়ে না দিয়ে বরং পর্যায়ক্রমে করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং তা নিয়ে সরকার অত্যন্ত আশাবাদী।
আগামী ৫ থেকে ৮ বছর ব্যাংকিং খাতের জন্য প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে— এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার এরই মধ্যে এজন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করে রেখেছে। তবে এটি একা সরকারের পক্ষে পর্যাপ্ত নয় বিধায় আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) ব্যাংকের রিক্যাপিটালাইজেশন বা মূলধন পুনর্গঠনে সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি প্রাইভেট ইকুইটি থেকেও ব্যাপক সাড়া মিলছে।
ব্যাংকিং খাতের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে বললেন, আমানতকারীদের মধ্যে যে ভীতি কাজ করছিল তা এখন পুরোপুরি কেটে গেছে; বরং ব্যাংকে উল্টো আমানত ফিরছে এবং নেট ডিপোজিট বাড়ছে। পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক ধারা ফিরছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আবার বিনিয়োগে এগিয়ে আসছে।
বৈঠকে জ্বালানি খাতে বিশ্বব্যাংকের সমর্থন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে ভর্তুকিও দিতে হবে। অর্থনৈতিক ঘাটতি মেটাতে বিশ্বব্যাংক এ খাতে সহায়তা দিতে এগিয়ে আসবে। অর্থনীতিতে বিগত সময়ের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে দু-তিন বছরের একটি কুশন বা সুরক্ষাবলয় তৈরিতে তারা সহযোগিতা করবে।
রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের সুফল পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বললেন, এরই মধ্যে ইনকাম ট্যাক্স বা আয়করে ১৮ শতাংশের মতো অগ্রগতি দেখা গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত আরও উন্নত হবে।


