প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে রাজধানীর পুরানাপল্টনে ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’ উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ৭১ পুরানাপল্টনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। স্বাগত বক্তব্য দেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ভূমির অধিকার রক্ষা এবং ভূমিসেবা পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। দীর্ঘদিন ধরে ভূমিসেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা জটিলতা ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তন করে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, ভূমিসেবাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। নতুন এ কেন্দ্রের মাধ্যমে নাগরিকেরা সহজে, দ্রুত এবং হয়রানি ছাড়াই ভূমিসংক্রান্ত সেবা ও পরামর্শ পাবেন। এখানে খতিয়ান, নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন করসংক্রান্ত তথ্য ও সেবা পাওয়া যাবে।
ভূমিসেবায় দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না জানিয়ে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। সাধারণ মানুষ যাতে সম্মান ও স্বস্তির সঙ্গে তাঁদের প্রাপ্য সেবা পান, সেটিই সরকারের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২ চালুর মধ্য দিয়ে জনবান্ধব ভূমিসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় ভূমিসেবায় পুরোনো পদ্ধতির পরিবর্তন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ কেন্দ্র শুধু সেবা প্রদানের জায়গা নয়, বরং জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার প্রতীক। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নাগরিকেরা বিনামূল্যে সহজে ও অল্প সময়ে ভূমিসংক্রান্ত সেবা নিতে পারবেন। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, ভূমিসেবা আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও হয়রানিমুক্ত করতে ভূমি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। প্রথম নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্রের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভূমিসেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে।
তিনি জানান, নতুন কেন্দ্র থেকে ই-নামজারি ও খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন দাখিল, অনলাইনে ভূমিসেবা ফি ও ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও সহায়তা পাওয়া যাবে। নাগরিকেরা যাতে সেবা নিতে এসে হয়রানি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ভূমি মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


