বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬
spot_img
Homeমুল পাতাসাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদ ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারির আদেশ

সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদ ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারির আদেশ

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার চট্টগ্রামের সিনিয়র মেট্রোপলিটন স্পেশাল জজ মো. আবদুর রহমানের আদালত দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুদক এ বিষয়ে আবেদন করেছিল।

দুদকের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মোকাররম হোসাইন জানান, “দুদকের করা মামলার আসামি সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেছিলাম। শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। আদালতের এই নির্দেশনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলে পাঠানো হবে।”

এদিকে রোববার ভোরে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহায় জাবেদ দম্পতির গাড়ি চালকের বাড়িতে অভিযান চালায় দুদক। সেখানে পাওয়া যায় ‘২০ বস্তা নথি’, যেগুলোতে ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় জাবেদের সম্পদের তথ্য আছে বলে দুদক জানিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দুবাই ও সিঙ্গাপুরে তার সম্পদের খোঁজ পেয়েছিল দুদক।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে গত ২৪ জুলাই ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। আসামিদের মধ্যে আছেন—জাবেদ, তার স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, ব্যাংকের পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী, জাবেদের বোন রোকসানা জামান চৌধুরী, ইউসিবিএল ব্যাংক ও আরামিট গ্রুপের বিভিন্ন কর্মকর্তা।

মামলার এজাহারে বলা হয়, জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের এক কর্মচারীকে মালিক সাজিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে নামসর্বস্ব একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করে ইউসিবিএল ব্যাংক চট্টগ্রামের পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করানো হয়। পরে সেই টাকা গ্রুপের অন্যান্য কর্মচারীর নামে খোলা আলাদা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করে পাচার করা হয়।

ব্যাংকের ক্রেডিট কমিটি ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিলেও পরিচালনা পরিষদ কোনো যাচাই ছাড়াই ঋণ অনুমোদন করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর, সাবেক ভারপ্রাপ্ত এমডি আরিফ কাদরীসহ আরও অনেক পরিচালক ও কর্মকর্তা আসামি হিসেবে আছেন। আরামিট গ্রুপের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও আসামি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ছেলে জাবেদ চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি প্রথম মেয়াদে ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং পরের মেয়াদে ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর জাবেদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দুদক। ইতিমধ্যে আদালত যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি, যুক্তরাষ্ট্রে ৯টি এবং অন্যান্য দেশে জাবেদ ও রুকমীলার স্থাবর সম্পত্তি জব্দের আদেশ দিয়েছে। এ ছাড়া তাদের নামে থাকা ৩৯টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশও এসেছে, যেখানে প্রায় ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি জমা আছে।

গত বছরের ৭ অক্টোবর আদালত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে দুজনেই বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়