বুধবার, মার্চ ১১, ২০২৬
spot_img
Homeমুল পাতাসবাইকে নিয়ে সম্প্রীতির সমাজ গঠন করতে হবে

সবাইকে নিয়ে সম্প্রীতির সমাজ গঠন করতে হবে

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

নারী ও সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ ছাড়া সম্প্রীতি টেকসই হয় না। তাই সম্মিলিতভাবে সবাইকে নিয়ে সম্প্রীতির সমাজ গঠন করতে হবে। নাগরিক, ধর্মীয় এবং তরুণ নেতাসহ স্বেচ্ছাসেবী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ‘সম্প্রীতি সংলাপে’ বক্তারা এসব কথা বলেন।

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তায় ‘এজেন্টস অব চেঞ্জ: এ বাংলাদেশ ফ্রিডম অব রিলিজিওন অর বিলিফ লিডারশিপ ইনিশিয়েটিভ’ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গতকাল রোববার খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) কনভেনশন হলে সংলাপের আয়োজন করা হয়। এ সংলাপের লক্ষ্য বাংলাদেশে ধর্ম, বিশ্বাস ও সম্প্রীতির সুদীর্ঘ ঐতিহ্য লালনে নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো।

সংলাপ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক মুহাম্মদ রফিক-উল ইসলাম, দি হাঙ্গার প্রজেক্টের এজেন্টস অব চেঞ্জ প্রজেক্টের ডিরেক্টর (অপারেশন্স) ও চার্চ অব ইংল্যান্ডের পলিসি অ্যাডভাইজার ড. চার্লস রিড, ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও), ব্রিটিশ হাইকমিশন, ঢাকার সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার তাহেরা জাবীন এবং গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইজার ড. শাহনাজ করীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা।

সভাপতির বক্তব্যে প্রশান্ত ত্রিপুরা বলেন, ‘সমাজে নানা জাতি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। এই বৈচিত্র্যকে সম্মান জানাতে হবে এবং মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ও অসমতা কমাতে হবে। সমাজ ও রাষ্ট্র যদি সম্প্রীতিকে ধরে রাখতে পারে, তাহলে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে, যেখানে সবাই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ থাকবে।’

ড. শাহনাজ করীম বলেন, ‘নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ ছাড়া সামাজিক সম্প্রীতি বা ধর্মীয় নেতৃত্ব সম্ভব নয়। বাংলাদেশের সব ধর্মের মূল বার্তা হলো সমতা ও সম্প্রীতি। এ জন্য সিভিল সোসাইটির মাধ্যমে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে হবে।’

মুহাম্মদ রফিক-উল ইসলাম বলেন, ‘প্রত্যেক ধর্মের মূল বাণী হলো সম্প্রীতি, কল্যাণ, শান্তি ও ভালোবাসা। সমাজ বিনির্মাণে মানবিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি। ইসলাম ধর্মে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও প্রতিবেশীর অধিকারের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। তরুণ ও ধর্মীয় নেতারা একসঙ্গে কাজ করলে সম্প্রীতির সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’

ড. চার্লস রিড বলেন, ‘বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বের মান আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় ফোরাম এবং চলমান কার্যক্রমগুলো অনুপ্রেরণাদায়ক।’

তাহেরা জাবীন বলেন, ‘স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারলে সমাজ থেকে অসমতা দূর করা সম্ভব।’

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়