মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২৬
spot_img
Homeমুল পাতাঈদের আগে ন্যাশনাল ব্যাংককে ১,০০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ঈদের আগে ন্যাশনাল ব্যাংককে ১,০০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

তারল্য সংকটে থাকার কারণে জরুরি তহিবিল হিসেবে ঈদের আগে বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংকে ১ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঈদের সময় গ্রাহকদের টাকা তোলার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সহায়তার জন্য ১১.৫ শতাংশ সুদে ৯০ দিনের জন্য ন্যাশনাল ব্যাংককে এ তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা টিবিএসকে নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংক তারল্য সংকটের মধ্যে আছে। গ্রাহকদের অর্থ সময়মতো ফেরত দিতে পারছে না। এজন্য তহবিল সমস্যার মধ্যে রয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি দেয় ন্যাশনাল ব্যাংক। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দিয়েছে।

ন্যাশনাল ব্যাংকের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ক্যাশ ফ্লো ঠিক রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। ঈদের আগে ব্যাংকে গ্রাহকদের টাকা তোলার চাহিদা বেড়ে যায়। এজন্য এ সময় তারল্য বেশি থাকা প্রয়োজন। তাছাড়া ব্যাংকে যে পরিমাণ আমানত ও ঋণ আদায় হচ্ছে তা দিয়ে তারল্য ঘাটতি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। তবে মূল্যস্ফীতিজনিত প্রভাব থাকায় এ সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অভ ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব হচ্ছে আর্থিক স্থিতিশীলতা। যে ব্যাংকগুলোর সমস্যা, সেগুলোকে তারল্য সহায়তা না দিলে সেগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে তা অর্থনীতির জন্য ভালো নয়, তাতে পুরো সিস্টেম কলাপসড হয়ে যাবে। এটাও ঠিক যে এভাবে তারল্য সহায়তা দেওয়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে পরিপন্থি। কারণ মূল্যস্ফীতি টাইট করার জন্য যে পদ্ধতি নেওয়া হয় তা আর থাকে না। তখন মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেকজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ডিমান্ড প্রমিসরি’ (ডিপি) নোটের বিপরীতে ন্যাশনাল ব্যাংককে এ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরো বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে।

ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনশীল মুদ্রানীতি রেখেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য নীতি সুদহার ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে।

নানা অনিয়মে জড়িয়ে ধুঁকছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকের প্রায় পুরোটা সময় ব্যাংকটির পর্ষদ প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সিকদার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

সিকদার গ্রুপের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার মারা যাওয়ার পর পর তার ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিবাদের জেরে ব্যাংকটির অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ে।

এমন প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় স্বতন্ত্র পরিচালক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ারকে। তার সময়ে ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংককে একীভূত করার আলোচনা শুরু হয়। তবে পরে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০২৪ সালের মে মাসে আবার নতুন পর্ষদ দেওয়া হয় ন্যাশনাল ব্যাংকে। সে সময় এর নিয়ন্ত্রণ চলে যায় চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের কাছে। তখন ব্যাংকটির পরিচালকদের অনেকেই এস আলম গ্রুপের নামে-ভিন্ন নামে থাকা বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধি ছিলেন।

সরকার পতনের পর ব্যাংকটির পর্ষদ এস আলমমুক্ত হয়। পরে এ ব্যাংকের পুরনো উদ্যোক্তা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু চেয়ারম্যান হিসেবে ফিরে আসেন। এরপর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংক উপর্যুপরি তারল্য সংকটের মুখে পড়েছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিকবার ব্যাংকটিকে জরুরি সহায়তা দিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়