প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সব চাহিদা সমন্বিতভাবে নিরূপণ এবং জ্বালানিবাহী জাহাজকে চট্টগ্রাম বন্দরে বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স রুমে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন ও বাংকারিং বিষয়ক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় বন্দরের সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রমসহ সব লজিস্টিক সাপোর্ট আগের মতো নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বহির্নোঙরে অবস্থানরত সব জাহাজের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে সহযোগিতার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ করা হয়েছে।
বন্দরের জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন ও বাংকারিং সুনিশ্চিত করাসহ অপারেশনাল কার্যকারিতা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সজাগ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সভায় বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরে আসা জাহাজসমূহের মাধ্যমে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজসমূহের অধিকাংশ বাংকারিং ও সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সরবরাহের প্রধান উৎসগুলো সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া কেন্দ্রিক হওয়ায় বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব এখানে নগণ্য।
তিনি জ্বালানি সরবরাহ আরও শক্তিশালী করতে এবং বিকল্প উৎস অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থাপিত চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে উপসাগরীয় (গালফ) অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানিবাহী জাহাজের নিয়মিত ও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে কাতার, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা ৫টি এলএনজ এবং ২টি এলপিজিবাহী বড় জাহাজসহ বর্তমানে মোট ১৪টি জ্বালানিবাহী জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে অথবা আসার পথে রয়েছে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে আসা ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলবাহী জাহাজগুলোর পাশাপাশি এই জাহাজগুলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার এক শক্তিশালী ও নিরবচ্ছিন্ন চিত্র তুলে ধরে। বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পণ্য নিয়ে এই জাহাজগুলোর ধারাবাহিক আগমন এবং দ্রুত বার্থিং ব্যবস্থা এটাই প্রমাণ করে যে, বর্তমানে বন্দরে কোনো ধরনের জট নেই এবং জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
রোববার (৮ মার্চ) অনুষ্ঠিত সভায় বন্দরের সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিপিসি, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, ওমেরা ফুয়েল লিমিটেড, পদ্মা অয়েল কোম্পানি, বাংলাদেশ ওশানগোয়িং শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডাররা অংশ নেন।
তাঁরা জানান যে, দেশের বর্তমান জ্বালানি মজুদ সন্তোষজনক এবং চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে নৌ-বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে কার্যকর ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


