প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
জুলাই আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ ছয়জন নিহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু।
গ্রেপ্তার আসামিদের উপস্থিতিতে নিজেদের অভিযোগ পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান। এরপর দোষী নাকি নির্দোষ তাদের জিজ্ঞেস করা হয়। জবাবে নির্দোষ দাবি করেন কাঠগড়ায় থাকা চার আসামি। তবে ফজলে করিমকে অ্যাম্বুলেন্সের স্ট্রেচারে শুয়ে রাখা হয়।
এরপর ২২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার পলাতক অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা। এছাড়া আসামিপক্ষে আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা ছিলেন।
গতকাল (সোমবার) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ করে আসামিপক্ষ। টানা তিন কার্যদিবসে ডিসচার্জ (অব্যাহতি) চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবীরা। এর মধ্যে এ মামলায় কারও বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠনের মতো উপাদান নেই বলে দাবি করেছেন আইনজীবী মিজানুর রহমান।
একইসঙ্গে পলাতক আসামিদেরও অব্যাহতি চেয়েছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম। তবে ২২ জুন মামলার প্রাথমিক দায় বিবেচনায় নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করে প্রসিকিউশন।
এর আগে, ৭ এপ্রিল তিন অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৫ এপ্রিল ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
মামলার প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম ও হৃদয় চন্দ্রকে শহীদ করার দায় আনা হয়। এছাড়া জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার কথা তিন নম্বর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


