প্রাইম ভিশন ডেস্ক
নেত্রকোনার মদনে ১১ বছরের শিশু মাদ্রাসার শিক্ষক দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে, উঠেছিল অভিযোগ। মেয়েটির মা গত ২৩ এপ্রিল মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাদ্রাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে আসামি করে থানায় করেছেন মামলা।
এরপর সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয় ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে। আসামি গ্রেপ্তারের পূর্বেই অভিনেতা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির সামাজিক মাধ্যমে সাগরকে নির্দোষ উল্লেখ করে পোস্ট দেন। সেসময় অনেকেই প্রশ্ন রেখেছেন- আসামি গ্রেপ্তারের পূর্বে সালমান কিভাবে ডিএনএ টেস্ট করলেন?
সালমান মুক্তাদির তার ফেসবুক পোস্টে সুপসষ্টভাবে বলেছিলেন সাগর ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমানিত হয়েছেন। অথচ সেসময় ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি। গতকাল সোমবার ডিএনএ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জানা যায় ওই সন্তানের পিতা মাদ্রাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর।
এরপরই সামাজিক মাধ্যমে সালমান মুক্তাদিরের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা।
সেসময় সামাজিক মাধ্যমে সালমান মুক্তাদির লিখেছিলেন, ‘একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছিল—একজন ১১ বছরের শিশুকে তার মাদ্রাসার শিক্ষক গর্ভবতী করেছে বলে। পুরো দেশ, আমিসহ, এমন এক দানবের বিরুদ্ধে ভয়ংকর ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। কিন্তু আজ তদন্ত ও ডিএনএ সংক্রান্ত খবর থেকে জানা গেল, যাকে অভিযুক্ত করে সারা ইন্টারনেটে অপমান করা হয়েছিল, সে আসল অপরাধী নয়। বরং অভিযোগ উঠেছে, শিশুটির নিজের দাদার দিকেই।’
এরপরই সালমান মুক্তাদিরকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। যদিও পরে তোপের মুখে সালমান সেই কথাগুলোকে অক্ষুণ্ণ রেখে আরেকটি বাক্য যুক্ত করেছেন। লিখেছেন, ‘আবার অন্য কিছু সূত্র এটাকে গুজবও বলছে। সহজভাবে বললে, এখনো কোনো নিশ্চিত নাম, নিশ্চিত ডিএনএ রিপোর্ট বা স্পষ্ট তদন্ত ফলাফল নেই।
এদিকে, নবজাতকের বাবা হিসেবে মামলার আসামি মাদরাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই শনাক্ত হয়েছেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) করা ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নুরুল কবীর রুবেল।
পিপি নুরুল কবীর বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের বাবা হিসেবে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে শনাক্ত করা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মামলাটির বিচারকার্য শেষ করা সম্ভব হবে বলেও আশা করেন তিনি।


