প্রাইম ভিশন ডেস্ক
ক্যান্সারের নতুন ঘরানার টিকার পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য ফল পেয়েছেন গবেষকরা। প্রাণঘাতী এক বিশেষ ধরনের ত্বকের ক্যান্সারকে ওই টিকা শুধু ঠেকায়নি, বন্ধ করে দিয়েছে সেটির ফিরে আসার পথও। টিকাটি বিশেষভাবে তৈরি, এক টিকা সবার জন্য না। বরং প্রত্যেক রোগীর প্রয়োজন অনুসারে টিকার উপাদানে তারতম্য ছিল। ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান মের্ক ও মডার্না এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে টিকাটির কার্যকারিতার। প্রতিষ্ঠান দুটি বড় মাপে পরীক্ষাও চালিয়েছে এটি নিয়ে।
টিকার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এক হাজারেরও বেশি ক্যান্সার রোগী। তারা সবাই প্রাণঘাতী ত্বকের ক্যান্সার মেলানোমার রোগী ছিলেন। প্রত্যেকেই টিউমার অপসারণের পরও ক্যান্সার ফিরে আসার ঝুঁকিতে ছিলেন। টিকাটি মূলত সুনির্দিষ্ট একটি ক্যান্সারের ক্ষেত্রে কাজ করেছে। পরীক্ষায় টিকাটি একা প্রয়োগ না করে, প্রচলিত ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধ ‘কিট্রুডা’র সঙ্গে যৌথভাবে প্রয়োগ করে এর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়।
এমনিতে প্রথাগত ক্যান্সারের চিকিৎসার ধরন অন্যরকম। একই ধরনের চিকিৎসা প্রায় সব ধরনের জন্য প্রয়োগ করা হয়। ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ রকম সুনির্দিষ্ট টিকা, যা নিওঅ্যান্টিজেন থেরাপি নামেও পরিচিত, তৈরি করা সম্ভব হলে তা যুগান্তকারী ফল উপহার দিতে পারবে।
এখনও প্রতিষ্ঠান দুটি নিজেদের তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করেনি। তবে তারা জানিয়েছে, টিকা প্রয়োগের পর সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এ ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে ছিল ক্লান্তি ও জ্বর। এই প্রসঙ্গে এনওয়াইইউর পার্লমাটার ক্যান্সার সেন্টারের গবেষক ও চিকিৎসক জ্যানিস মেহনার্ট বলেন, ‘রোগীরা কয়েকদিন অস্বস্তি বোধ করেছেন। এক বা দুই দিন কাজে যেতে পারেননি। তবে প্রাণের জন্য হুমকি তৈরি করে এমন কিছু হয়নি।’
টিকা তৈরির গবেষণায় যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে গবেষকরা কাজ করছেন প্রায় এক দশক ধরে। গবেষণাটির এক গবেষক ক্যাথরিন উ বলেন, রোগীদের এই টিকা সহযোগিতা করতে সক্ষম হয়েছে। উ আরও বলেন, ‘এটি এমন নয় যে এক ধরনের টিকা দিয়ে সব রোগীকে সহায়তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বরং এতে মূলত প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সুনির্দিষ্ট টিকা তৈরি করা হয়েছে।’
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের প্রতিবেদন বলছে, এই টিকা তৈরির সময় গবেষকরা প্রথমে ক্যান্সার টিউমারের নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে তা থেকে তৈরি করেন সেটির ডিএনএ সিকোয়েন্স। এরপর সেটির সঙ্গে ওই ব্যক্তিরই সুস্থ টিস্যুর ডিএনএর তুলনা করেন তারা। এর মধ্য দিয়ে ক্যান্সারে মদদ জোগানো সুনির্দিষ্ট সমস্যা খুঁজে বের করেন তারা। এরপর মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম দিয়ে গবেষকরা বোঝার চেষ্টা করেন যে কোন ধরনের নিওঅ্যান্টিজেন কাজে দেবে।
ঠিক কীভাবে রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ওই নিওঅ্যান্টিজেনগুলো খুঁজে বের করতে বলা যায়, সেটি নিয়েও জটিলতা ছিল। গবেষকরা এটিও খুঁজে বের করেন। আর সব তথ্য হাতে পাওয়ার পর তারা বিশেষায়িত ওই টিকা তৈরি করতে সক্ষম হন। বিষয়টি গবেষক মেহনার্ট সহজভাবে ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এখানে আপনি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ব্লুপ্রিন্ট দেওয়ার চেষ্টা করছেন, অনেকটা রোডম্যাপ দেওয়ার মতো– ঠিক কী খুঁজতে হবে এবং কীভাবে সেটিকে সরাতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মানুসারে কোনো ওষুধকে অনুমোদন পেতে হলে পরীক্ষার বেশ কয়েকটি ধাপ পার করতে হয়। মের্ক ও মডার্না প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছে, ফেজ ৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আশানুরূপ ফল দেখেছেন তারা। এটিই যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে অনুমোদন পাওয়ার শেষ ধাপ। এবারই প্রথম কোনো এমআরএনএ ক্যান্সার টিকা এতদূর এসেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।


