Homeসংবাদজ্বালানি তেলের দামে দরপতন

জ্বালানি তেলের দামে দরপতন

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

তিন দিনের ব্যবধানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রে দুই ব্যাংক বন্ধের খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় দরপতন হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে কমছে দর, নেমে এসেছে এক বছর তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম দামে। প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দর ৭২ ডলার নেমে এসেছে। আর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম নেমেছে ৬৬ ডলার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক ও সিগনেচার ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার জেরে বুধবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে এই ধস নেমেছে। গত সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম জানুয়ারির শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। অন্যদিকে ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের (ডব্লিউটিআই) দামও ডিসেম্বরের পর থেকে সর্বনিম্নে ঠেকে। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল দুই ধরনের তেলের দামই ২০২১ সালের ডিসেম্বরের পর সবচেয়ে কম দামে নেমে এসেছে।

বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ ডলার ১২ সেন্ট বা ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭১ ডলার ৯৮ সেন্টে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ডব্লিউটিআইর দাম ৪ ডলার ৭৮ সেন্ট বা ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৬৬ ডলার ৫৫ সেন্টে নেমে এসেছে।

তেলের দাম কমার বিষয়ে সিএমসি মার্কেটসের একজন বিশ্লেষক লিওন লি বলেছেন, ‘অপরিশোধিত তেলের দামের ওপর সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের ধসের প্রভাব তো পড়েছেই, তার পাশাপাশি চীনের দুর্বল অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারেরও প্রভাব পড়েছে। কারণ, চীনে কঠোর কোভিড-১৯ বিধিনিষেধ থেকে সরে আসার পর ধারণা করা হচ্ছিল যে, দেশটির অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। তবে সেটি প্রত্যাশা মোতাবেক পুনরুদ্ধার করতে পারছে না। যার প্রভাবই পড়েছে তেলের দামে।’

করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরেই। মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় বড় দেশ ঋণের সুদের হার বাড়িয়েই চলেছে। অন্য বড় অর্থনীতির দেশগুলোও সেই একই পথ অনুসরণ করছে। আর এটিই বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা পূর্বাভাস দিচ্ছে।

ডলার প্রাইস ইনডেক্সের তথ্যানুসারে, গত বছর ডলারের দর ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডলারের দর বাড়লে আমদানি মূল্য বেড়ে যায়, যা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করে। সে জন্য ডলারের দর বাড়লে উন্নয়নশীল দেশগুলো জ্বালানি তেল আমদানি হ্রাস করে, বাংলাদেশও যা করেছে। ডলার বাঁচাতে দেশে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখে।

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়