প্রাইম ভিশন ডেস্ক
নেপালি পুলিশের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ হয়েছে। আজ সকালে এক বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৬৪ জনের লাশ চিতওয়ান জেলার ভাটির এলাকা থেকে এবং আরও ২৬ জনের লাশ নওয়ালপরাসি পূর্ব থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এখনও নিখোঁজ থাকা শত শত মানুষের মধ্যে রয়েছেন ২৮ পুলিশ কর্মকর্তা।
জঙ্গল সাফারির জন্য পরিচিত পর্যটন কেন্দ্র চিতওয়ানসহ বেশ কয়েকটি পৌরসভাকে বন্যার পানি বৃদ্ধির কারণে রাখা হয়েছে উচ্চ সতর্কতায়।
এর আগে নেপাল জানিয়েছিল, প্রায় ৫৭৯ জন পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৬৬ জন বিদেশি।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভির বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে ভূমিধসে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫৮ জনে। এদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।
জিরং-এর সীমান্তটি চীন ও নেপালের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের প্রধান সংযোগস্থল।
‘আমার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও আছে’
বন্যা থেকে উদ্ধার হওয়া কেশব প্রসাদ বরাল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে বলেছেন, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যাটি সরাসরি আমাদের দিকে ধেয়ে আসা কাদার এক বিশাল স্রোতের মতো মনে হচ্ছিল।
একটি ছোট হাসপাতালে এখন চিকিৎসাধীন ৬৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তি। তিনি বললেন, পানি তার বাড়িতে ঢোকার আগেই উঠে যায় অনেক উঁচুতে।
তিনি তখন তার স্ত্রীর হাত ধরার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তিনি ভেসে যান, যোগ করেন কেশব।
এই ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টা পর পানি কমার আগে কাদা তার বাড়ির উপরের তলা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল।
তাকে উদ্ধার কীভাবে করা হলো জানালেন তিনি সে গল্প। বললেন, চার-পাঁচ ঘণ্টা পর, আমাকে উদ্ধার করতে একটি হেলিকপ্টার এলো।
দুঃখের সঙ্গে জানালেন স্ত্রী হারানোর কথা। তার ভাষ্য, ‘আমার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও আছে। সে আর নেই।’
গতকাল বুধবার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যার পর নেপালের রাসুয়া জেলা ও চীনের তিব্বতের গিরং অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো ভেসে গেছে বন্যার পানিতে।


