বুধবার, মার্চ ১১, ২০২৬
spot_img
HomeUncategorizedটেকনাফ ভয়ংকর ! মানবপাচার থেকে অপহরণ বাণিজ্য

টেকনাফ ভয়ংকর ! মানবপাচার থেকে অপহরণ বাণিজ্য

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়ায় চলছে মানুষ বেচার রমরমা বাণিজ্য। গত এক বছরে এক লাখ ২০ হাজারের মতো মানুষ পাচার করা হয়েছে বলে খোদ পাচারকারীরা স্বীকার করেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগে বিমানবন্দর ছিল মানবপাচারের প্রধান রুট। এখন সেই স্থান দখল করেছে কক্সবাজার-টেকনাফ নৌপথ।

পাচারকারীরা নতুন পথ বেছে নিয়েছে, বাহারছড়া-কচ্ছপিয়া পাহাড়কে বানিয়েছে ‘এয়ারপোর্ট’ বা বন্দিশালা। এখান থেকেই অপহৃত পুরুষ ও নারী, এমনকি শিশুকে পর্যন্ত জোরপূর্বক মালয়েশিয়াগামী ট্রলারে তুলে দেওয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই, মালয়েশিয়ায় পৌঁছে জিম্মি করে স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা।
মানবপাচার প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে কয়েকটি এনজিও সংগঠন ভয়াবহ তথ্য পেয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এনজিও কর্মকর্তা  বলেন, ‘এখন সবচেয়ে বেশি পাচার হচ্ছে টেকনাফের বাহারছড়া-কচ্ছপিয়া পাহাড়ি এলাকা দিয়ে।’

ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থানরত মানবপাচারকারী চক্রের শীর্ষ দালাল রোহিঙ্গা আবু তৈয়ব দাবি করেন, ‘চলতি বছর এখন পর্যন্ত বাহারছড়া এলাকা থেকে আমরা কয়েকজন মিলে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার জনকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছি। সেখানে নৌকার মাঝি আর পাহারাদাররা আমাদের কাছ থেকে পুলিশি সহায়তার নামে মাথাপিছু দুই হাজার টাকা নেয়। তবে সেই অর্থ শেষ পর্যন্ত কোথায় যায়, তা আমরা জানি না।

’অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১২ সাল থেকে মানবপাচার ভয়াবহ রূপ নিলেও প্রশাসন ছিল তুলনামূলকভাবে নির্লিপ্ত। ২০১৫ সালে থাইল্যান্ডে গণকবরের সন্ধান মিলতেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নড়েচড়ে বসে। সে সময় অভিযানে বহু দালাল গ্রেপ্তার হয় এবং কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনাও ঘটে।

আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, যখন মানবপাচারের ওপর কঠোরতা আরোপ করা হয়, তখন মানবপাচারকারীরা ইয়াবা পাচারে জড়িয়ে পড়ে। এই অপরাধের মিশ্রণ তাদের নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখে।

টেকনাফে সক্রিয় পাচারকারী চক্রগুলো অত্যন্ত সংগঠিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত। পাচারচক্রের পাঁচজন মূল হোতা মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ ও মায়ানমারে অবস্থান করে তাঁদের স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করেন।

যৌথ অভিযানে টেকনাফের গহিন পাহাড়ে পাচারকারীদের আস্তানার সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে ৮৪ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে আটকে রাখা হয়েছিল। এসব আস্তানায় মুক্তিপণ আদায় এবং জিম্মিদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পাহাড়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও পাচারকারীরা ডিভাইস টু ডিভাইস সংযুক্তির মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, পুলিশের দুর্বল তদন্তের ফলে অভিযোগপত্র ত্রুটিপূর্ণ হয়, যার কারণে পাচারকারীরা কারাবন্দি থাকা সত্ত্বেও জামিনে মুক্তি নিয়ে পুনরায় অপরাধে ফিরে আসে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) অলক বিশ্বাস  বলেন, ‘পুলিশ সব সময় মানবপাচার রোধে কাজ করে যাচ্ছে। যদি কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়