প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
চট্টগ্রাম নগরীতে এস এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় থেকে মোড়কজাত পণ্যের (পার্সেল) তিনটি কার্টন জোরপূর্বক নিয়ে যাবার চেষ্টার অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় র্যাবের সদস্য পরিচয় দেওয়া আরও একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
গতকাল সোমবার রাতে নগরীর কোতোয়ালী থানার নুর আহমদ সড়কে এস এ পরিবহনের কাজির দেউড়ি শাখায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার কৃষাণ বড়ুয়া (২৭) চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বাসিন্দা। তিনি কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের আইসিটি শাখায় কনস্টেবল পদে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে। পালিয়ে যাওয়া নোটন বড়ুয়ার বাড়িও একই উপজেলায়। তিনিও একটি বাহিনীতে কর্মরত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
এস এ পরিবহনের কাজীর দেউড়ি শাখার মহাব্যবস্থাপক মোরশেদ আলম জানালেন, সেনাবাহিনীর লোগোসহ স্টিকার লাগানো একটি মোটর সাইকেলে করে দুজন কাউন্টারের সামনে যান। কৃষাণ শার্টের ওপর পুলিশের ভেস্ট পরা ছিলেন। তিনি নিজেকে নগরীর চান্দগাঁও থানার কনস্টেবল পরিচয় দেন। নোটন র্যাবের লোগোসহ প্রিন্ট করা একটি টি-শার্ট পরা ছিলেন। তিনি নিজের নাম ‘নিলয় বড়ুয়া’ ও র্যাব সদস্য বলে পরিচয় দেন।
‘দুজন কাউন্টারের ভেতরে ঢুকে তিনটি কার্টন নিয়ে যাবার চেষ্টা করেন। স্টাফরা বাধা দিলে তারা চড়াও হন। তখন আমাকে কল দেওয়া হয় অফিস থেকে। আমি কৃষাণকে ভিডিওকলে দেখে চিনতে পারি। একমাস আগেও কাউন্টারে এসে একবার র্যাব পরিচয় দিয়ে গ্রাহকের ডকুমেন্ট নিয়ে যায়। আমি বিষয়টি পুলিশকে জানাবো বলে ভয় দেখালে তারা কার্টনগুলো না নিয়েই চলে যান। কিছুক্ষণ পর আবার কৃষাণ কাউন্টারে আসেন। তখন আমি অফিসে ছিলাম। তাকে কৌশলে আমার রুমে নিয়ে আটকে ট্রিপল নাইনে কল দিই। কোতোয়ালী থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের টিম এসে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।’
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা মোরশেদ আরও জানালেন, কৃষাণকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার থেকে বেশ কয়েকজন দোকানি ও কর্মচারি এস এ পরিবহনের সামনে ভিড় করেন। তারা অভিযোগ করেন, র্যাব-পুলিশের পরিচয় দিয়ে কৃষাণ ও নোটন তাদের দোকান থেকেও বিভিন্নসময় নানা ধরনের পণ্য আত্মসাত করেছেন। দুজনের চাঁদাবাজিতে তারা অতীষ্ঠ ছিলেন।
কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন আগামীর সময়কে বলেন, ‘প্রতারণার মাধ্যমে নিজের মিথ্যা পরিচয় দিয়ে পুলিশ কনস্টেবল কৃষাণ এস এ পরিবহনের কাউন্টার থেকে তিনটি পার্শ্বেল আত্মসাতের চেষ্টা করেন। তার সঙ্গে ছিলেন নোটন বড়ুয়া নামে একজন। যিনি নিজের নাম নিলয় বড়ুয়া বলেছিলেন। এস এ পরিবহনের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। আমরা গ্রেপ্তার কৃষাণকে আদালতে পাঠিয়েছি।’


