প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
দেশে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর সঙ্গে আগামী গ্রীষ্মের আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে আরও ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যা মোট উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক প্রসার ও ব্যবহার ত্বরান্বিত করতে আজ থেকে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সোলার এক্সপো। এদিন মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল বুধবারও চলবে এই মেলা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সরকার জ্বালানির বহুমুখী ব্যবহারেও জোর দিচ্ছে। সৌরবিদ্যুতের প্রসারে আপাতত দেড় হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ তহবিলের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।
সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমাতে আমদানি কর ও শুল্ক ছাড় দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমানে সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১৩৬টি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র সচল রয়েছে। এসব কেন্দ্রের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াটে। আর বিদ্যুতের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রতিদিন গড়ে উৎপাদন হচ্ছে ১৪ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশকে আমদানিনির্ভর দেশে পরিণত করা হয়েছে। ফলে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ব্যয়। এ খাতে চলতি অর্থবছরে ইতিমধ্যে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় এবং অতীতে করা বিভিন্ন চুক্তি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তারেক রহমান।
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার প্রমুখ।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করছে।
সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলছিলেন, কুইক রেন্টালের মাধ্যমে লুটপাট না করে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ থেকে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এ জন্য সৌরবিদ্যুতের প্রসারে সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে।
‘গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট সাড়ে ১০ টাকা দরে কিনে নেওয়া হচ্ছে’, যোগ করেন সরকারপ্রধান।
কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আগামী গ্রীষ্মের আগেই দেশের ১৭ হাজার ডিজেলচালিত সেচপাম্প সৌরবিদ্যুতে রূপান্তর করা হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ।
এবারের এক্সপোর প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’। এতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, নতুন প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং বিদ্যুৎ সংরক্ষণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনীর উদ্বোধন শেষে বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এরপর সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
আয়োজকদের আশা, সৌরবিদ্যুতের প্রসার আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এ প্রদর্শনী সৌরবিদ্যুৎ খাতে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
মেলায় সৌরবিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন সমাধান ও সেবা নিয়ে বিশেষায়িত প্রদর্শনী স্টল রয়েছে। এসব স্টলে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি এবং উন্নত ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থাসহ আধুনিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রকল্প অর্থায়ন, সহজ শর্তে ঋণ এবং কারিগরি সহায়তা সম্পর্কে নিজেদের সেবা তুলে ধরছে দেশের শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প উন্নয়নকারী ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।
দুই দিনের এ আয়োজনে সৌরবিদ্যুৎ খাতের কৌশলগত উন্নয়ন, নীতিগত পরিবেশ ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে চারটি বিশেষায়িত সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
এতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, বিনিয়োগকারী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেবেন। পাশাপাশি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ ওরিয়েন্টেশন পর্বেরও আয়োজন রাখা হয়েছে।


