Saturday, July 4, 2026
spot_img
Homeমুল পাতাকথা রাখলেন জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান

কথা রাখলেন জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

নূর ছেহের বেগম। বয়স প্রায় নব্বইয়ের ঘরে। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ক্ষতিপূরণের টাকার জন্য ঘুরেছেন এদিক-ওদিক। কিন্তু পরিত্রাণ পাননি। চলতি বছরের ৩ আগস্ট দুর্নীতি কমিশনের (দুদক) গণশুনানিতে ৪০ বছর ধরে টাকা না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।
সেই গণশুনাতি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান বৃদ্ধার টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) বৃদ্ধার হাতে ৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক। দীর্ঘ অপেক্ষা এবং কষ্টের অবসান হয় বৃদ্ধার। তাই চেক নিতে এসে তাঁর চোখে আনন্দ অশ্রু। হাত তুলে দোয়া করলেন জেলা প্রশাসকের জন্য।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি সংরক্ষণ এলাকা বৃদ্ধির জন্য ১৯৮১ সালে দক্ষিণ হালিশহর মৌজায় মৌলভী বশিরউল্লাহর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ক্ষতিপূরণের টাকা হিসেবে বন্দর কর্তৃপক্ষ ২৭ লাখ ১৭ হাজার ৮৫৪ টাকা জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেন। বশিরউল্লাহর মৃত্যুতে ৬ ছেলে ওয়ারিশ হলেও, দুই ছেলে আবুল খায়ের ও আবু ছৈয়দ সব টাকা উত্তোলন করে ফেলেন। এতে বঞ্চিত হন অপর ৪ ছেলে। বঞ্চিত ৪ ছেলের একজনের ওয়ারিশ নুর ছেহের বেগম এবং তার পরিবার। নুর ছেহের বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন সার্টিফিকেট মামলা করেন। সেইসঙ্গে বঞ্চিত ৪ ছেলের প্রাপ্য ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৮৪ টাকা এলএ নথিতে ফেরত প্রদানের জন্য নোটিশ করেন ওই দুই ছেলের বিরুদ্ধে। এতে নুর ছেহের বেগম ও তার পরিবারের দাবি ৪ লাখ ২৮ হাজার ৪৬১ টাকা।

দীর্ঘসময় পার হলেও সেই টাকা ফেরত দেয়নি তাঁরা। এর মধ্যে পার হয়ে গেছে প্রায় ৪০ বছর। কিন্তু আশা ছাড়েননি বৃদ্ধা নুর ছেহের। দুর্নীতি দমন কমিশনের শুনানির দিন জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান বৃদ্ধার কষ্টের কথা জানতে পারেন। তখন প্রতিশ্রুতি দেন সার্টিফিকেট মামলার কার্যক্রম জোরদার করে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে।

সেই প্রতিশ্রুতি রাখলেন জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান। নুর ছেহেরের দীর্ঘ প্রতিক্ষারও অবসান হয়।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়