প্রাইম ভিশন ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক। এদের মধ্যে ৪ জনই একই পরিবারের বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে ঘটা এই অগ্নিকাণ্ডে মোট ৯ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের তথ্য যোগাড়ের চেষ্টা করেছেন কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা। উপ-হাইকমিশন থেকে নিহতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপ-হাইকমিশন থেকে একটি সার্বক্ষণিক হেল্প লাইন চালু করা হয়েছে।
এদিকে আগুনে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে চারজনই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও আহত ছয় জন বাংলাদেশি নাগরিককে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছে দুই শিশু। তারা হলো আড়াই বছর বয়সী শিশু শর্ণশিষ দত্ত ও সাড়ে তিন বছরের আহামেদ বাবু।
শর্ণশিষ দত্তের বাবা সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত (৩৯), মা ২৭ বছর বয়সী আফসানা শিম্মিন এবং নানা আকরাম আলীও মারা গেছেন।
দেবাশিস দত্তের বাড়ি কুষ্টিয়া মডেল থানার মোহিনী মিল এলাকার আরুয়াপাড়ায়। তার বাবার নাম দিলীপ কুমার দত্ত। আকরাম আলীর বাড়ি কুষ্টিয়া হেড পোস্ট অফিস এলাকার বদরুদ্দোজা রোডে।
নিহত আহামেদ বাবুর বাড়ি ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়িতে। তার বাবার নাম আদম আলী।
১৯ বছর বয়সী সন্দীপ পাসওয়ান ভারতের ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা।
অপর তিনজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনের সময় ওই হোটেলে ২৫ জন বাংলাদেশি ছিলেন।
কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নিহতরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলের তিন তলায় রাত ২টা ৭ মিনিটে আগুন লাগে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে অন্তত চারটি ঘরে। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘুম ভেঙে যায় হোটেলের বাসিন্দাদের। আগুন দ্রুত আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে হোটেলের কক্ষগুলো ঘন কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। এতে হোটেলের বাসিন্দা আতঙ্কিত হয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেন। জীবন বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। তবে ধোঁয়ার কারণে হোটেল থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন না তারা। অনেকেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।


