প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
জামালপুরে সাংবাদিক নাদিম হত্যায় অভিযুক্ত বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহামুদুল আলম বাবুকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪।
শনিবার (১৭ জুন) সকাল ৭টার দিকে দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের চর তিস্তাপাড়া এলাকার কৃষক ও বাবু চেয়ারম্যানের চাচা মমতাজ ইসলামের বাড়ি থেকে র্যাব সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
এ সময় বাবুর সঙ্গে থাকা আরও দুজনকে আটক করে নিয়ে যায় র্যাব।
তিনজনকে আটকের বিষয়টি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার এসএম সিরাজুল হুদা।
তিনি বলেন, র্যাবের পক্ষ থেকে তাকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয় না। বিস্তারিত জানানো হলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সেগুলো শেয়ার করবেন।
তিস্তাপাড়া এলাকার স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার বিকালের দিকে স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষক ফকরুল ইসলামের চাচা মমতাজ আলীর বাড়িতে আসেন চেয়ারম্যান বাবুসহ তিনজন। শনিবার ভোরে ওই বাড়ি থেকে তাদের তিনজনকেই ধরে নিয়ে যায় র্যাব।
চেয়ারম্যান বাবু ছাড়া অন্য দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে এ ব্যাপারে পুলিশ বা র্যাবের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
গত বুধবার রাত ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফেরার পথে বকশীগঞ্জ পৌর শহরের পাট হাটি মোড় এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন নাদিম। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও দেখা যায়, চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে পেটাতে পেটাতে সিসি ক্যামেরার আওতার বাইরে নিয়ে যায় একদল সন্ত্রাসী। এরপর তাকে বেধড়ক মারধর করে ফেলে রেখে যায়।
পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাতেই জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। পরদিন সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে মারা যান নাদিম।
নিহতের পরিবার, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কারণ সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক নাদিমের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন চেয়ারম্যান। বিভিন্ন সময় তিনি নাদিমকে হুমকিও দিয়েছেন।
এদিকে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা সবাই চেয়ারম্যানের অনুসারী বলে পরিচিত।


