প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানা পুলিশ হেফাজতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক এক উপপরিচালকের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া দুদকের সাবেক ওই কর্মকর্তার নাম ছৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লা। তার পরিবারের অভিযোগ, এটি হত্যাকাণ্ড।
মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান ছৈয়দ শহীদুল্লা। এর ঘণ্টাখানেক আগে তাকে তার বাসা থেকে আটক করে পুলিশ।
শহীদুল্লা দুদক থেকে ২০০৭ সালের ১২ জুলাই অবসরে যাওয়ার আগে চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। পরিবার নিয়ে চান্দগাঁও থানার পাশের এক কিলোমিটার এলাকায় থাকতেন তিনি।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি-উত্তর) পংকজ দত্ত দুদকের এই সাবেক কর্মকর্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, একটি সিআর মামলায় ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে শহীদুল্লাকে গ্রেপ্তারের ১৫ মিনিট পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর দ্রুত তাকে হাসপাতালেও নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে গিয়ে দেখা যায় হাসপাতালের মর্গের কলাপসিবল গেটে তালা। মেডিকেলে কথা হয় শহীদুল্লার ছেলে নাফিস শহীদের সঙ্গে। তার দাবি, গতকাল রাত ১১টার দিকে বাসার সামনে বের হয়েছিলেন শহীদুল্লা। ওই সময় সাদা পোশাকে তিনজন পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
নাফিস শহীদ বলেন, ‘আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘বাবাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার চাচারা থানায় যান। কিন্তু ওই সময় থানার ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমার বাবা হৃদরোগী ছিলেন। তার সব সময় ইনহেলার ও মেডিসিনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এসব আমার বাবার কাছে পৌঁছাতে দেয়নি পুলিশ। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাত ১২টার দিকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এটা পরিকল্পিত হত্যা।’
শহীদুল্লার পরিবারের সদস্যরা জানান, জমি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি মামলার বিষয়ে তারা কিছু জানতেন না। এ সংক্রান্ত কোনো নোটিসও পাননি শহীদুল্লা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে আমাদের কেউ অসদাচরণ করেনি। গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ পর খারাপ লাগার কথা জানালে আমি তাকে আমার কক্ষে এনে বসাই। পরে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তার ভাইদের সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়।’


