Thursday, July 2, 2026
spot_img
Homeমুল পাতাচবির দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীর পাশে জেলা প্রশাসক

চবির দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীর পাশে জেলা প্রশাসক

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

কারও বাবার ক্যান্সারের চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। কেউ নিজেই স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অর্থের অভাবে চিকিৎসা চালাতে পারছেন না।

বার্ধক্য, দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, দারিদ্র্য কিংবা উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম-এমন নানা সংকটে থাকা নয়জনকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষা চালিয়ে নিতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগর থেকে আসা একাধিক সেবাপ্রত্যাশীর আবেদন ও অভিযোগ শুনেন জেলা প্রশাসক। একই সঙ্গে অনলাইনে অংশ নেওয়া পাঁচজন প্রবাসী বাংলাদেশির অভিযোগও শোনেন তিনি।

গণশুনানি শেষে চরম আর্থিক সংকটে থাকা নয়জনকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া চারজন দুস্থ নারীকে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, মরিচ, হলুদ ও ধনিয়ার গুঁড়াসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।
গণশুনানিতে রাঙ্গুনিয়ার জাফর আহমদ চিকিৎসা ও জীবিকা নির্বাহের জন্য আর্থিক সহায়তা চান। সীমিত আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে চিকিৎসা ব্যয় বহন করাও তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পূর্ব মাদারবাড়ীর পিংকি হিজড়া জানান, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর অর্থাভাবে তাঁর চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে নিতে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

বাঁশখালীর মর্জিয়া বেগম বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। অন্যদিকে স্বামী-সন্তানহীন হাসিনা বেগম মানুষের বাসায় কাজ করে জীবনযাপন করলেও শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা চালানোর সামর্থ্য হারিয়েছেন।

লোহাগাড়ার এক গণমাধ্যমকর্মী তাঁর ক্যান্সার আক্রান্ত বাবার চিকিৎসার জন্য সহায়তা চান। একইভাবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ফ্রন্ট ডেস্কে কর্মরত রিতা দাশ বাবার হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা ও কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যয় বহনে অক্ষমতার কথা তুলে ধরেন।

পাহাড়তলীর আনোয়ারা বেগম জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এর মধ্যে পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়লেও অর্থাভাবে অস্ত্রোপচার করাতে পারছেন না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী সেলিম ভূঁইয়া তাঁর আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ বাবা ও দিনমজুর বড় ভাইয়ের সীমিত আয়ের কারণে তাঁর উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে তিনি এককালীন শিক্ষাবৃত্তি সহায়তা চান।

অন্যদিকে অনলাইন গণশুনানিতে কাতার, দুবাই ও ওমানে অবস্থানরত প্রবাসীরা পৈতৃক সম্পত্তি দখল, জাল দলিল তৈরি, পারিবারিক হয়রানি, প্রাণনাশের হুমকি ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এছাড়া রাঙ্গুনিয়া ও পটিয়ার দুই বাসিন্দাও জমি দখলের অভিযোগ করেন।

সব অভিযোগ শুনে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় তদন্ত, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

গণশুনানি শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, একটি আবেদনপত্রের পেছনে থাকে একটি পরিবারের কষ্ট, একজন রোগীর চিকিৎসা কিংবা একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। সরকারি নীতিমালার আওতায় থেকে প্রকৃত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের দায়িত্ব।”

তিনি বলেন, জনগণ শেষ আশ্রয় হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসেন। তাই প্রতিটি আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে শুনে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়