Friday, June 26, 2026
spot_img
Homeসংবাদ৬ রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ

৬ রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

দেশে নানান রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে‌। সরকারের সর্বশেষ জরিপেও উঠে এসেছে এমন তথ্য, যা নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে জনস্বাস্থ্যবিদদের।  গত সপ্তাহে প্রকাশিত সরকারের পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি ১৮টি ক্যাটাগরির রোগের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে জনসংখ্যার শতকরা হারে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬টি ক্যাটাগরির রোগের হার ৭০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। বাকি ২৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত। দীর্ঘমেয়াদি রোগগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই অসংক্রামক রোগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই ছয় রোগে রীতিমতো কাবু হয়ে পড়েছে দেশে বেশির ভাগ মানুষ। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের কর্মসংস্থান ও উপার্জনের ক্ষেত্রে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কয়েকটি টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহামুদুর রহমান  বলেন, ‘আমাদের দেশে সংক্রামক ও অসংক্রামক- দুই ধরনের ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের চাপ বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নয়, আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কার্যক্রম দরকার। পাশাপাশি মানুষের শিশুকাল থেকেই আচরণগত পরিবর্তন ঘটাতে হবে।’

তিনি বলেন, খাদ্যাভ্যাস ইতিবাচক পরিবর্তন সবচেয়ে জরুরি। পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম ও ধূমপান বন্ধে নজর দিতে হবে। তা না হলে যতই চিকিৎসার ব্যবস্থা হোক, সুফল মিলবে না।

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘রোগ হওয়ার পরে চিকিৎসার চিন্তার চেয়ে রোগ যাতে না হয়, সেদিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের দেশে গুরুত্ব কম আছে। রোগ ঠেকানোর পদক্ষেপ নজর না দিলে এসবের বিস্তার রোধ করা যাবে না।’

তিনি বলেন, রোগীর সংখ্যা যদি বেড়ে যায় তবে শত শত হাসপাতাল তৈরি করেও কুলোনো যাবে না। আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যু ঠেকানো যাবে না।

বিবিএসের তথ্য অনুসারে সর্বোচ্চ ২০ দশমিক ৮০ শতাংশ গ্যাস্ট্রিক-আলসার, ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপ, ১২ দশমিক ১৬ শতাংশ বাত বা আর্থারাইটিস, ৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ শ্বাসকষ্টজনিত, ৮ দশমিক ২৪ শতাংশের ডায়াবেটিস ও ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ হৃদরোগে আক্রান্ত। বাকি ২৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ অন্যান্য ক্যাটাগরির রোগ। এর মধ্যে আঘাতপ্রাপ্ত ও প্রতিবন্ধী ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ, চর্ম রোগে ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ, চোখের রোগে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ, নাক, কান ও গলার রোগে ২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, মানসিক রোগে ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ, কিডনি রোগে ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ, দীর্ঘমেয়াদি জ্বরে ২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, ক্যানসার শূন্য দশমিক ২৭ শতাংশ, ৮ দশমিক ৮২ শতাংশ আরও নানান রোগে আক্রান্ত মানুষ।

ওই তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি বড় রোগগুলোর মধ্যে গ্যাস্ট্রিক- আলসারের প্রকোপ শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি; নারীদের চেয়ে পুরুষ বেশি আক্রান্ত। তবে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত মানুষ শহর এলাকায় বেশি। রক্তচাপের রোগীদের মধ্যে নারী বেশি আবার হৃদরোগে আক্রান্তদের মধ্যে বেশি পুরুষ। শ্বাসতন্ত্রের রোগীও বেশি পুরুষ। আর্থারাইটিসে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন নারীরা। ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের মধ্যে নারী-পুরুষের হার প্রায় কাছাকাছি। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের হার গ্রামের প্রায় দ্বিগুণ শহর এলাকায়। সূত্র খবরের কাগজ।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়