প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
নৈসর্গিক প্রাকৃতির সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটি। যেটি কি না রূপের রানী নামে খ্যাত। পাহাড়, মেঘ, ঝিরি-ঝর্ণা, আঁকাবাঁকা পথ সঙ্গে সুবিশাল মিঠাপানির কাপ্তাই হ্রদ এক বিস্ময়কর শান্তির ফুয়ারা। শহরের প্রবেশের সময়ই হাতের বা পাশে দেখা মিলবে এ শহরের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় ‘ফুরমোন’।
চাকমা ভাষায় ফুরমোন অর্থ ফুরফুরে মন। কয়েক ঘণ্টা পাহাড় চড়ার কষ্ট এর চূড়ার সৌন্দর্য আপনাকে ভুলিয়ে মন ফুরফুরে করে দেবে। তাই এর নাম ফুরমোন হিসেবে বরাবরই যথার্যথ। এই পাহাড়ের মেঘ মিতালী প্রতিনিয়িত পর্যকটদের মুগ্ধ করছে।
জানা গেছে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অভাবনীয় স্থানটির উচ্চতা এক হাজার ৫১৮ ফুট। যা শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এ পাহাড়ের চূড়া থেকে রাঙ্গামাটি শহরের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। অবলোকন করা যায় চট্টগ্রামেরও কিছু অংশ। আঁকাবাঁকা উঁচু নিচু পাহাড়ি রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করলে উপভোগ করা যায় পাহাড়ি পরিবেশ। রাস্তায় রাস্তায় দেখা মিলে জুমের ফসল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি দেখা মিলবে পাহাড়িদের দৈনন্দিন জীবন সংগ্রামের চিত্র।
তিন দিক দিয়ে ফুরমোন পাহাড়ে ওঠা যায়। একটি রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে সোজা চূড়া পর্যন্ত ওঠে যাওয়া যায়। বাকী দু’টি পাহাড়ি পথ। একটি রাঙ্গামাটি শহর মানিকছড়ি সাপছড়ি দিয়ে। এটি খাড়া পথ। এটিতে সময় কম লাগে তবে অনেকের কাছেই কষ্টকর। আরেকটি সাপছড়ি নাড়াইছড়ি হয়ে ওঠতে হয়। অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষের কাছে এটি জনপ্রিয় পথ। এটি দিয়ে ওঠতে সময় লাগে পথ না চিনলে আপনি হারিয়েও যেতে পারেন। এ পথ দিয়ে যেতে ভাগ্য ভালো থাকলে পাহাড়ি বানরের দেখা পেলেও পেয়ে যেতে পারেন।
বর্ষাকালে এ পথে সুন্দর কয়েকটি ঝিরির দেখা মেলে। এ পথ দিয়ে পাহাড়ে ওঠার পর চার শ’র বেশি সিড়িঁ উঠতে হবে। সিড়িঁ ওঠার পর সর্বপ্রথম চোথে পড়বে ফুরমোন বৌদ্ধবিহার। এটিই ফুরমোনের সর্বোচ্চ চূড়া। যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে ফুরমোন পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে এবং রাঙ্গামাটি ভ্রমণে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পর্যাপ্ত আনন্দ দিবে বলে আশা স্থানীয়দের।
যেভাবে যাওয়া যাবে: ঢাকার ফকিরাপুল, কলাবাগানসহ বিভিন্ন কাউন্টার থেকে রাঙ্গামাটির উদ্দেশে বিভিন্ন পরিবহনের বাস যায়। মানভেদে ভাড়া ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। রাঙ্গামাটি পৌঁছে শহর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ফুরমোন পাহাড়ের পাদদেশে যাওয়া যায়। চট্টগ্রাম এর অক্সিজেন বাসস্টেশন থেকে পাহাড়িকা বাসে ঘাগড়ার কিছু পরে সাপছড়ি নেমে যান। জনপ্রতি ভাড়া ১৭০ টাকা। এখানের যেকোনো লোককে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দেবে।
রাঙ্গামাটি শহরের বনরুপা, নিউ মার্কেটসহ যে কোনো স্থান থেকে সিএনজি করে ফুরমোনের পাদদেশে যেতে পারেন। এক্ষেত্রে লোকাল জনপ্রতি ৫০-৬০ টাকা অথবা রিজার্ভ করলে ৩০০-৩৫০ টাকা ভাড়া পড়বে।
ফুরমোনে ওঠার জন্য অবশ্যই পাহাড়ে ওঠার অভ্যাস থাকতে হবে। আরামে যেতে চাইলে সাপছড়ি নাড়াইছড়ি দিয়ে সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে যেতে পারেন। যাওয়ার আগে পানি, খাবার নিয়ে নিতে হবে। পাহড়ের রাস্তায় কোনো দোকান নেই।


