শনিবার, মে ৯, ২০২৬
spot_img
Homeমুল পাতাপশ্চিমবঙ্গ পেল বিজেপি সরকার, ঝুলে রইল কেরালা ও তামিলনাড়ু

পশ্চিমবঙ্গ পেল বিজেপি সরকার, ঝুলে রইল কেরালা ও তামিলনাড়ু

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

২০২৬ সালের মে মাস ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে রইল। একদিকে পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছে প্রথম বিজেপি সরকার। এর মধ্য দিয়ে কয়েক দশকের বাম ও তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটল। অন্যদিকে, দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে বইছে অস্থিরতার হাওয়া; যেখানে তামিলনাড়ুতে তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং কেরালায় বাম দুর্গের পতন জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

আজ শনিবার নতুন মোড় নিল পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস। কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় ২০৭টি আসন পেয়ে বিজেপি এক অভাবনীয় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম— উভয় কেন্দ্র থেকেই জয়লাভ করে নিজের নেতৃত্ব প্রমাণ করেছেন।

শুভেন্দুর সঙ্গেই এদিন শপথ নিয়েছেন তাঁর পাঁচজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী— দিলীপ ঘোষ (খড়্গপুর সদর), অগ্নিমিত্রা পাল (আসানসোল দক্ষিণ), অশোক কীর্তনিয়া (বনগাঁ উত্তর), ক্ষুদিরাম টুডু (রানীবাঁধ) এবং নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙা)। যদিও দপ্তর বণ্টন এখনও হয়নি, তবে উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল— সব এলাকার প্রতিনিধিত্ব এই মন্ত্রিসভায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানকে এক জাতীয় স্তরের উৎসবে পরিণত করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ‘বাংলার মাটি আজ প্রকৃত পরিবর্তনের স্বাদ পেল।’

তামিলনাড়ু: থালাপথি বিজয়ের উত্থান ও অচলাবস্থা
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে কয়েক দশকের ডিএমকে-এআইডিএমকে দ্বিমেরু রাজনীতি তছনছ করে দিয়েছেন অভিনেতা থেকে জননেতা হওয়া থালাপথি বিজয়। তাঁর দল তামিলনাগা ভেতরি কাজাগাম (টিভিকে) ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে।

তবে ১১৮টি আসনের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে না পারায় তামিলনাড়ু বিধানসভা এখন ‘ত্রিশঙ্কু’ অবস্থায়। বিজয় সম্ভাব্য শরিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করলেও রাজ্যপাল আর.এন. রবি এখনও সরকার গঠনের সবুজ সংকেত দেননি। রাজ্যপাল জানিয়েছেন, যতক্ষণ না ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন দালিলিকভাবে প্রমাণিত হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো পক্ষকে শপথের জন্য ডাকা হবে না।

ডিএমকে ইতিমধ্যেই বিজয়ের এই উত্থানকে তীব্র আক্রমণ করেছে। শরিকি দ্বন্দ্ব ও সমর্থনের অভাবে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। তবে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, বিদুত্থালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে) দল বিজয় এবং তাঁর দল টিভিকে-এর নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনে সমর্থন জানাবে। দলের এক শীর্ষ নেতা ‘দ্য হিন্দু’কে এ কথা জানিয়েছেন। ভিসিকে-র দুটি আসন রয়েছে। দলের প্রেসিডেন্ট থোল. থিরুমাভালাভান শিগগিরই এই ঘোষণা দেবেন।

এর আগে দিনের শুরুতে ভিসিকে সূত্র জানায়, বিজয়কে সরকার গঠনের জন্য রাজ্যপাল যাতে আমন্ত্রণ জানান সে লক্ষ্যে টিভিকে-র অনুরোধ করা বিন্যাসে একটি সমর্থনপত্র জমা দেওয়া হবে।

এদিকে তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায়, দল থেকে যেকোনো ধরনের দলবদলের প্রচেষ্টা ঠেকানোর একটি স্পষ্ট পদক্ষেপ হিসেবে রাজ্যের পাঁচজন কংগ্রেস বিধায়ক আজ শনিবার হায়দ্রাবাদে অবস্থান করছেন। কংগ্রেস এরই মধ্যে বিজয়কে সমর্থন জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিজয় নেতৃত্বাধীন জোটের আসন সংখ্যা হবে এমন:
টিভিকে – ১০৮টি আসন (কার্যকর আসন সংখ্যা ১০৭)

কংগ্রেস – ৫টি আসন

সিপিআই – ২টি আসন

সিপিআই (এম) – ২টি আসন

ভিসিকে – ২টি আসন

কেরালা: মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে কংগ্রেসে টানাপোড়েন
দক্ষিণের আরেক রাজ্য কেরালাতেও বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। টানা ১০ বছরের বাম (এলডিএফ) শাসনের অবসান ঘটিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)।

১৪০টি আসনের মধ্যে ১০২টি আসনে জয়লাভ করেছে ইউডিএফ। বিদায়ী বাম সরকার মাত্র ৩৫টি আসনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এটি কেরালায় বামপন্থী রাজনীতির জন্য এক বিশাল বড় ধাক্কা।

বিপুল জয় এলেও কংগ্রেসের অন্দরে মুখ্যমন্ত্রী বাছাই নিয়ে শুরু হয়েছে ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’। সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে আজ শনিবার সন্ধ্যায় কে সি বেণুগোপাল, ভি ডি সতীশন এবং রমেশ চেন্নিথালার সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। কেরালা রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি সানি জোসেফও এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। আশা করা হচ্ছে, আজকের বৈঠকেই কেরালার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত হবে।

২০২৬ সালের এই ফলাফল ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের মহড়া হিসেবে দেখছেন রাজনীতি বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির দখলে যাওয়া এবং কেরালায় কংগ্রেসের পুনরুত্থান জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী ইন্ডিয়া (INDIA) জোট এবং কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন এনডিএ-র শক্তি বিন্যাসকে বদলে দিচ্ছে। দক্ষিণ ভারতে বিজয়ের মতো নতুন শক্তির উদয় আঞ্চলিক দলগুলোর গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিল।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়