প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বন্যার পানিতে ভেসে নিখোঁজ এক শিশুসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার পৃথক এলাকা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
শনিবার (২৪ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক চৌধুরী। এর আগে, বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন তারা।
জানা গেছে, শনিবার সকালে উপজেলার নারায়নহাট ইউনিয়নের ইসহাক ডাক্তারের বাড়ির পূর্ব পাশে মইজ্ঞ্যা পুকুর এলাকা থেকে মোহাম্মদ ইমরান নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ইমরান ঐ এলাকার সওদাগর বাড়ির তাজুল ইসলামের ছেলে।
বৃহস্পতিবার নারায়ণহাট ইউনিয়নের মির্জারহাটের হালদার কূলে বন্যায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করতে গিয়ে পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। শনিবার সকালে মইজ্ঞ্যা পুকুর এলাকায় তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পরিবারকে খবর দেওয়া হয়।
এর আগে, শুক্রবার রাতে একই উপজেলার ভূজপুর ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের কবির পাড়া এলাকা থেকে বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া রজি আহমেদ নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কবির পাড়ার সুলতান আহমদের ছেলে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে মাদরাসা থেকে ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন রজি আহমেদ। পথে বন্যার প্রবল স্রোতে ছেলে একটি খুঁটি আঁকড়ে ধরে থাকতে পারলেও বাবা পানিতে ভেসে যান। পরে স্থানীয়রা ছেলেকে উদ্ধার করেন। নিখোঁজ ছিলেন বাবা।
ছেলের নাম মোহাম্মদ নাঈম। সে স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়ে। রজি আহমেদের চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে নাঈম সবার বড়।
একইদিন শুক্রবার বন্যার পানিতে ভেসে নিখোঁজ শাহাদাত হোসেন সামি নামে ১০ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের শান্তিরহাট বাজারের পূর্ব পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। সামি ঐ এলাকার সাত নম্বর ওয়ার্ডের সাদিনগর এলাকার মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের ছেলে।
বৃহস্পতিবার সড়ক পার হওয়ার সময় বন্যার স্রোতে ভেসে যায় সামিসহ তিন শিশু। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করলেও নিখোঁজ ছিল সামি। শুক্রবার নিখোঁজ স্থানের কাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বন্যার পানিতে নিখোঁজ এক শিশুসহ তিনজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে শুক্রবার দুজন ও শনিবার একজনের মরদেহ পাওয়া যায়।
প্রসঙ্গত, টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে ফটিকছড়িতে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে ২০ হাজার পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ। শনিবার সকাল পর্যন্ত কিছু কিছু এলাকায় বন্যা পরস্থিতি উন্নতির খবর পাওয়া গেছে।


