প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
যুক্তরাজ্যের সিটি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প থেকে ৫০০ কোটি ডলার আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ১২০০ কোটি ডলারের চুক্তির মধ্যে থেকে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানের খাতায় টিউলিপ সিদ্দিকের পাশাপাশি আরও রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং শেখ হাসিনার ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়।
টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতিরসহ আরও অভিযোগ রয়েছে।
২০১৩ সালে ক্রেমলিনে একটি জমকালো অনুষ্ঠানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শেখ হাসিনা এবং ভ্লাদিমির পুতিন এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। সেখানে টিউলিপ সিদ্দিক, তার মা শেখ রেহানা এবং তার ছোট বোন আজমিনা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর টিউলিপ সিদ্দিক এবং তার পরিবারের সদস্যরা পুতিনের সঙ্গে হাসিমুখে ছবিও তোলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট ১২০০ কোটি ডলার খরচের ৯০ শতাংশ রাশিয়ার ক্রেমলিন থেকে শেখ হাসিনা সরকারের ঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছিল, তবে এর মধ্যে ৫০০ কোটি ডলার শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যরা ‘রাশিয়ান কর্মকর্তাদের সাথে মিলে’ মালয়েশিয়ার ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন।
যদিও শেখ পরিবারের সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছে।
আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুক এই অভিযোগকে হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘টিউলিপকে টার্গেট করা হচ্ছে শুধুমাত্র তিনি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি হওয়ার কারণে।’
এদিকে, বিদ্যুৎ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা রাশিয়ার রোসাটম কোম্পানি অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে প্রকল্পটির সুনাম নষ্ট করার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে।
অবশ্য লেবার মন্ত্রী টিউলিপকে নিয়ে বিতর্ক এই প্রথম নয়। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার কিছুদিন পরই তার বিরুদ্ধে সংসদীয় তদন্ত শুরু হয়। ‘দ্য মেইল অন সানডে’ এক প্রতিবেদনে জানায় যে, তিনি প্রায় ১৪ মাস ধরে একটি লন্ডনের সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত ভাড়ার আয় ঘোষণা করেননি।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টারি নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের আয় ২৮ দিনের মধ্যে ঘোষণা করা বাধ্যতামূলক।
ট্রেজারির ইকোনমিক সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী টিউলিপ সিদ্দিক পরে ক্ষমা চান এবং কমিশনার বিষয়টিকে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ হিসেবে বিবেচনা করে তাকে মুক্তি দেন।
গত আগস্টে একই পত্রিকা জানায়, টিউলিপ সিদ্দিক দুই বছর আগে একটি ২ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের পাঁচ বেডরুমের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এই বাড়িটি তিনি সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন রাজনৈতিক সহযোগীর কাছ থেকে ভাড়া নেন।
গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিউজ ওয়েবসাইট ‘গ্লোবাল ডিফেন্স কর্প’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন দাবি করা হয়, টিউলিপ সিদ্দিক এবং তার পরিবারের সদস্যরা মালয়েশিয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে ৫০০ কোটি ডলার আত্মসাৎ করেছেন। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করে এবং যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে এই রিট দায়ের হয়।
গত ৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএমের) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।


