প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী সিজারিয়ান (অস্ত্রোপচার) প্রসবের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। অথচ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর ও জেলা চট্টগ্রামে সেই নির্ধারিত সীমা ‘অস্বাভাবিক।’ এই অঞ্চলে বর্তমানে সিজারিয়ান প্রসবের গ্রহণযোগ্য হার সীমার তিনগুণের বেশি।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়- চট্টগ্রামে গত ছয়মাসে যতো প্রসব হয়েছে, তার ৪৮ শতাংশ সিজারিয়ানের মাধ্যমে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ অস্ত্রোপচারই হচ্ছে প্রয়োজন ছাড়াই। যার কারণে নবজাতক ও মায়ের দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলার প্রধান সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের বিষয়ে পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়। পরিসংখ্যান থেকে প্রাপ্ত তথ্যমত্রে, স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ৬৯টি। এগুলোর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৬ হাজার ৮৮৫টি এবং বেসরকারি হাসপাতালে ১১ হাজার ১৮৪টি। আর সিজার করা হয় ২৬ হাজার ৫১৭টি। সরকারি হাসপাতালে ১০ হাজার ৫১টি এবং বেসরকারি হাসপাতালে ১৬ হাজার ৪২৬টি।
বাংলাদেশ অবস্টেট্রিক্যাল এন্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটির (ওজিএসবি) চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি বিশেষজ্ঞ গাইনি চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুন নেসা রুনা বলেন, ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ প্রসব সিজারিয়ান করানোর সীমা নির্ধারণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কিন্তু এ সংখ্যা তিনগুণের বেশি হওয়া অস্বাভাবিক এবং দুশ্চিন্তার বিষয়। এটা বিপজ্জনক প্রবণতা। তাই প্রতিটি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে লেবার রুম প্রটোকল (প্রসবঘর নীতিমালা) মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে।


