মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৬
spot_img
Homeচট্টগ্রামচাকরিজীবী, পেশাজীবী–বিত্তবানরা টার্গেট, প্রেমের ফাঁদে লুটে হত্যা

চাকরিজীবী, পেশাজীবী–বিত্তবানরা টার্গেট, প্রেমের ফাঁদে লুটে হত্যা

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

নগরের ডবলমুরিং থানাধীন পাহাড়তলী বাজার এলাকায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক ব্যক্তির সর্বস্ব হাতিয়ে নেয় স্বামী–স্ত্রী পরিচয় দেওয়া এক দম্পতি। এরপর জানাজানির ভয়ে ওই ব্যক্তিকে দুইতলার ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করে তারা। ৯৯৯–এ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এর ৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে খুনের নেপথ্যের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। এরা মূলত এরকম ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন চাকরিজীবী ও পেশাজীবীদের টার্গেট করে সবকিছু হাতিয়ে নেয়। গতকাল রোববার বিকেল ৩টার দিকে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ–কমিশনার (পশ্চিম) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া। এর আগে গত শনিবার রাত ১১টার দিকে অভিযুক্ত রুনা আক্তারকে এবং গতকাল দুপুরে তার কথিত স্বামী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ সূত্রে জানা গেছে, জিসকা ফার্মাসিউটিক্যালসে সিনিয়র মেডিকেল প্রমোশন অফিসার হিসেবে কাজ করতেন রনজিৎ দত্ত নিলক (৫৪)। কিছুদিন আগে তার পরিচয় হয় রুনা আক্তারের (৩৫) সঙ্গে। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। রুনা প্রেমের ফাঁদে ফেলে রনজিততে কব্জা করার চেষ্টা করেন। রুনার বাসায় আসা–যাওয়া হতো হরদম। এর মধ্যে রুনা তার কথিত স্বামী ইব্রাহিমকে (৫০) নিয়ে রনজিতের সর্বস্ব হাতানোর পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শেষে পুলিশে জানাজানির ভয় তাদের মধ্যে চেপে বসে। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে রনজিতকে তারা ফেলে দেন দুইতল ভবনের ছাদ থেকে। পুলিশ কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া বলেন, মোবাইল ও টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার পরে রনজিতের মৃত্যু নিশ্চিত করতে ভবনের দুই তলা থেকে একই ভবনের একতলার ছাদে অবচেতন অবস্থায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে একজন পথচারী ৯৯৯–এ ফোন করে ডবলমুরিং থানা পুলিশকে জানায়, পাহাড়তলী বাজার এলাকার ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সংলগ্ন সুলতান ভবনের ছাদে অজ্ঞাত এক পুরুষের মরদেহ পড়ে আছে। পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্তে বিভিন্ন থানায় ছবিসহ বেতার বার্তা পাঠায়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রনজিৎ দত্তের স্ত্রী শিপ্রা মজুমদার স্বামীর খোঁজ না পেয়ে পাহাড়তলী ও আকবর শাহ থানায় যোগাযোগ করে সবশেষ ডবলমুরিং থানায় এসে তার স্বামীর মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে তিনি অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা হোসাইন কবির বলেন, যতটুকু জেনেছি, চক্রটি চাকরিজীবী, পেশাজীবী–বিত্তবান লোকদের টার্গেট করে। এরপর ফাঁদে ফেলে তাদের কাছ থেকে টাকা–পয়সা হাতিয়ে নেয়। এরা আরও কতজনকে ফাঁদে ফেলেছে তা আমরা জিজ্ঞাসবাদে জানতে পারবো। রুনা আক্তারের পেশাই মূলত প্রেমের ভান করে ফাঁদে ফেলা। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। রুনা আক্তারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আরেক আসামিকে আমরা সোমবার (আজ) আদালতে পাঠাবো। যেহেতু এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তাই আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করবো।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়