প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় ওয়াকওয়ে, বসার গ্যালারি, ফুডজোন ও পার্কিংসহ নানাবিধ সুযোগ-সুবিধার বিনোদন স্পট নির্মাণ করছে সিডিএ।
চাক্তাই থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ নদী তীরে বাঁধ কাম চার লেন সড়কে গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন বিনোদন প্রান্ত। ৬০ লাখ জনবসতির এই নগরীতে উন্মুক্ত বিনোদন স্পটের বড়ই অভাব। নগরীর একপ্রান্তে পতেঙ্গা ছাড়া আর কোনো স্পট নেই। এখন পতেঙ্গার বিপরীত প্রান্তে কর্ণফুলীর তীরে চাক্তাই থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত নতুন নির্মাণাধীন আউটার রিং রোডে প্রস্তাবিত বিনোদন স্পট সম্পর্কে জানতে চাইলে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম বলেন, ‘আমরা কর্ণফুলীর সৌন্দর্য উপভোগের জন্য প্রাকৃতিক অবয়ব ঠিক রেখে মানুষের জন্য কিছু আয়োজন করতে যাচ্ছি।
এজন্য কয়েকজন বিখ্যাত স্থপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিজাইন করার জন্য। তাদের ডিজাইন অনুযায়ী আমরা কর্ণফুলীর তীরে চট্টগ্রামবাসীর জন্য উন্মুক্ত একটি বিনোদনের জায়গা গড়ে তোলার কাজ করছি।’
দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থপতিদের একজন হলেন সিডিএর সাবেক প্রধান পরিকল্পনাবিদ স্থপতি শাহীনুল ইসলাম খান। কর্ণফুলীর তীরে কোন ধরনের বিনোদন ক্ষেত্র গড়ে তোলা হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই টিমে স্থপতি জেরিনা হোসেন, সিডিএর সিনিয়র স্থপতি গোলাম রাব্বানীও রয়েছেন। আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে ডিজাইন করছি। তবে এখানে বেশি কোনো অবকাঠামো করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া আমরা নদীর দিকের ঢালু অংশে গ্যালারির মতো করে বসার ব্যবস্থা করব। একই সঙ্গে ওয়াকওয়ে ও সাইকেলের পথ থাকবে। গ্যালারির কিছুদূর পরপর ময়লার বিন থাকবে, যাতে মানুষ ময়লা নির্ধারিত বিনে ফেলতে পারে। এ ছাড়া থাকবে পার্কিং সুবিধাও।
চাক্তাই থেকে কালুরঘাট দীর্ঘ এই সড়কটির কোন অংশে পার্ক সুবিধা গড়ে তোলা হবে জানতে চাইলে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা চলমান রিং রোড প্রকল্পের আওতায় ওয়াকওয়ে, গ্যালারি ও সাইকেল পথ নির্মাণ করছি। চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতুর পর থেকে বলিরহাটের পাম্প হাউজ পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকায় আমরা এসব কাজ করছি। মানুষের বিনোদনের জন্য বাকি কাজগুলো সিডিএর নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করব।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে একটি বিনোদন পার্ক নির্মাণ করারও পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য জায়গাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
কিন্তু সড়কের শহর প্রান্ত থেকে নদীর প্রান্তে দর্শনার্থীরা যাবে কীভাবে? চার লেনের এই সড়কটিতে যুক্ত হওয়ার কোনো সংযোগ সড়ক নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিডিএর সাবেক প্রধান পরিকল্পনাবিদ ও এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত স্থপতি শাহীনুল ইসলাম খান বলেন, ‘রিং রোড প্রকল্পের আওতায় আমরা তিনটি ফুট ওভারপাস করছি। একটি ফুট ওভারপাস মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি ব্যবহার করবে এবং বাকি দুটি ওভারপাস দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে। এ ছাড়া এই ওভারপাসে কিছু নান্দনিক স্থাপত্যের যোগ থাকবে। যেখানে দাঁড়িয়ে কর্ণফুলী নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।


