প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ার পর সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আর নতুন মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে কারা সুযোগ পাচ্ছেন—এ নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
দলীয় নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম দু’টি—আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
চট্টগ্রাম–১১ আসন থেকে নির্বাচিত আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং কারাবরণের অভিজ্ঞতা তাকে নেতৃত্বের আস্থার জায়গায় রেখেছে। অতীতে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় নতুন মন্ত্রিসভায় শিল্প অথবা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম–৫ আসনের বিজয়ী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। তার নির্বাচনী জয়ের ব্যবধানও তাকে সম্ভাব্য মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় নিয়ে এসেছে বলে দলীয় নেতারা মনে করছেন। চট্টগ্রাম-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে তিনি প্রায় ১ লাখ ভোট বেশি পান। তার বয়স ৪৩ বছর। তার বাবা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ছিলেন। খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া সম্ভাব্য তালিকায় আরও যাদের নাম ঘুরছে, তারা হলেন—রাউজান থেকে নির্বাচিত গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম–৯ আসনের আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম–৮ আসনের এরশাদ উল্লাহ, তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে রাঙ্গুনিয়ার হুমাম কাদের কাদের চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম–১০ আসনের সাঈদ আল নোমান।তবে দলীয় সূত্রের ইঙ্গিত, এবার মন্ত্রিসভার আকার তুলনামূলক ছোট রাখা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম থেকে আগের মতো বড় প্রতিনিধিত্ব নাও থাকতে পারে।এর আগে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি–জোট সরকারে চট্টগ্রাম থেকে একাধিক পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী স্থান পেয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারও চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিনিধিত্বের সংখ্যা সীমিত থাকতে পারে।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, এবার মন্ত্রিপরিষদের আকার ছোট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এক্ষেত্রে আগের মতো চট্টগ্রাম থেকে বেশি সদস্য মন্ত্রিপরিষদে স্থান নাও পেতে পারেন। তবে চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে নির্বাচিত আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিএনপির মন্ত্রী পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকারী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকা রাউজান থেকে নির্বাচিত আলহাজ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, হাটহাজারী থেকে নির্বাচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ আরো অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে।
তাছাড়া বিগত সময়ে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসন থেকে যারাই জয়লাভ করে ছিলেন তাদের বেশিরভাগ সরকারের মন্ত্রিপরিষদে স্থান পেয়েছিলেন। এবার এ আসনে জয়লাভ করেন বিএনপির আলহাজ আবু সুফিয়ান। অপরদিকে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসন থেকে জয়লাভ করেন নগর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ এরশাদ উল্লাহ। নতুন মন্ত্রিসভায় তারাও থাকতে পারেন আলোচনায়। এছাড়া তরুণ নেতৃত্ব থেকে বিশেষ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাঙ্গুনিয়া থেকে নির্বাচিত হুমাম কাদের কাদের চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-১০ থেকে নির্বাচিত সাঈদ আল নোমানের নাম রয়েছে আলোচনায়।
প্রসঙ্গত, এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১৪টিতে জয়লাভ করে তাক লাগিয়ে দেয় বিএনপি। অথচ এর আগে দলটি এককভাবে নির্বাচন করে চট্টগ্রাম থেকে এতগুলো আসনে জয়লাভ করতে পারেনি। এবার নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থীরা হলেন- চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মোস্তাফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-আকবর শাহ) আসনে লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ) আসনে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আলহাজ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে হুমাম কাদের কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে আলহাজ এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে আলহাজ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী) সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট) আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) সরওয়ার জামাল নিজাম ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) জসিম উদ্দীন আহমেদ। চট্টগ্রামের অপর দুই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা জয়লাভ করেন।


