মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৬
spot_img
Homeমুল পাতাউড়ন্ত ট্যাক্সি এ বছর আকাশে উড়বে?

উড়ন্ত ট্যাক্সি এ বছর আকাশে উড়বে?

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

কল্পবিজ্ঞানের সিনেমা বা উপন্যাসে আমরা দশকের পর দশক ধরে দেখে আসছি উড়ন্ত ট্যাক্সি। এটি এখন আর শুধু কল্পনার বিষয় নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বহু প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু জাঁকজমকপূর্ণ প্রচারের আড়ালে লুকিয়ে আছে কিছু কঠিন প্রযুক্তিগত, নিয়ন্ত্রক এবং অর্থনৈতিক সত্য। প্রশ্ন উঠেছে, এ বছরের মধ্যে কি আসলেই আমরা আকাশপথে জ্যামহীন যাতায়াত শুরু করতে পারব, নাকি এটি শুধু একটি অলীক প্রচারণা? উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকলেও ইতিহাসের বাস্তব অভিজ্ঞতা কিন্তু ভিন্ন কথা বলছে।

উড়ন্ত ট্যাক্সি চালুর অনেক পরিকল্পনাই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আলোর মুখ দেখেনি। এর বড় উদাহরণ ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিক। আয়োজকদের পরিকল্পনা ছিল, এই ইভেন্টের মাধ্যমে বিশ্বকে উড়ন্ত ট্যাক্সির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। কিন্তু জার্মান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভলোকপ্টারের যানগুলোর ইঞ্জিনের ‘সার্টিফিকেশন’ পেতে অপ্রত্যাশিত বিলম্ব হওয়ায় সেই পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করতে হয়।

এসএমজি কনসালটিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও অংশীদার সার্জিও সেকুটা বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ পরিষেবা পেতে আমাদের অন্তত আগামী দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ বছরের মধ্যে আমরা বড়জোর অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে আমরা দু-একটি “প্রদর্শনীমূলক” ফ্লাইট দেখতে পারি। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য একটি কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা হিসেবে এটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সনদ এখনো তৈরি হয়নি।’

সার্জিও সেকুটার মতে, সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ, যেখানে বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে প্রচারণার চাকচিক্য ছাপিয়ে বাস্তবতার মাটি ছোঁয়া এখন এই শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রযুক্তির বৈচিত্র্য ও অ্যারো ডাইনামিক লড়াই

উড়ন্ত ট্যাক্সি বা ইলেকট্রিক ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং বিমানের মূল দর্শন হলো, হেলিকপ্টারের একটি শান্ত, পরিচ্ছন্ন এবং অনেক বেশি কার্যকর বিকল্প তৈরি করা। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রায় সব প্রতিষ্ঠান এখন ডিস্ট্রিবিউটেড ইলেকট্রিক প্রোপালশন পদ্ধতির ওপর নির্ভর করছে। এই প্রযুক্তিতে বিমানের কাঠামোজুড়ে অনেকগুলো ছোট ছোট ইলেকট্রিক মোটর এবং প্রপেলার ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এটি শুধু একটি বড় মোটরের ওপর নির্ভরতা কমায় না, বরং যানটিকে দেখতে অনেকটা প্রচলিত হেলিকপ্টারের চেয়ে আধুনিক ড্রোনের মতো করে তোলে।

প্রযুক্তির এই ময়দানে নকশা ও উড্ডয়ন কৌশল নিয়ে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মূলত দুই ধরনের লড়াই চলছে। এর একটি হলো স্থির প্রপেলার নকশা আর অন্যটি ঘূর্ণমান বা টিল্ট-রোটর প্রযুক্তি।

নতুন শ্রেণির এই বিমানকে আকাশে ওড়ানো মোটেও সহজ কাজ নয়। যদিও প্রতিষ্ঠানগুলো শত শত ঘণ্টার পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন শেষ করেছে। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী বহনের জন্য তাদের এফএএ (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), ইএএসএ (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) এবং সিএএর (যুক্তরাজ্য) মতো বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন পেতে হবে। এই সংস্থাগুলোর কাছে নিরাপত্তা মানদণ্ড এতটাই উঁচু যে ড্রোনের মতো দেখতে হলেও একে একটি বিশাল যাত্রীবাহী বোয়িং বিমানের সমতুল্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ব্যাটারির ‘ধ্বংসাত্মক’ অর্থনীতি

নাসার মতে, তাত্ত্বিকভাবে বৈদ্যুতিক মোটরগুলো সাশ্রয়ী। কিন্তু বিশ্লেষক বিল সুইটম্যান এক কঠিন সত্য সামনে এনেছেন। ইভিটিওএলগুলো উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় ব্যাটারিকে অত্যন্ত উচ্চ হারে ডিসচার্জ করে। এতে ব্যাটারির আয়ু দ্রুত শেষ হয়। সুইটম্যান জানান, প্রতিবছর বিমানের ব্যাটারি বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে, আর

এই খরচ প্রকল্পটির অর্থনৈতিক কাঠামোকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে সার্জিও সেকুটা আরও বলেন, অদূর ভবিষ্যতে এই পরিষেবা শুধু ‘অতি-ধনী’দের জন্য হবে, মধ্যবিত্তের যাতায়াতের বিকল্প হতে আরও ১০ থেকে ১২ বছর সময় লাগবে।

উড়ন্ত ট্যাক্সি প্রযুক্তি বর্তমানে শৈশবকাল পার করছে। এ বছর আমরা হয়তো দুবাই বা আমেরিকায় ছোট পরিসরে কিছু প্রদর্শনমূলক ফ্লাইট দেখব। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ গণপরিবহন হিসেবে উড়ন্ত ট্যাক্সি পেতে আমাদের ২০৩৫ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়