মঙ্গলবার, মে ৫, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেহুমায়ুনসহ জয় পেলেন যে ৪ মুসলিম নেতা

হুমায়ুনসহ জয় পেলেন যে ৪ মুসলিম নেতা

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মেরুকরণের রাজনীতির ভিড়েও নিজেদের আসন ধরে রেখেছেন বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মুসলিম নেতা। তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন হেভিওয়েট মন্ত্রী, কেউ রাজনীতির ময়দানের আলোচিত, আবার কেউ প্রতিকূলতার মধ্যে টিকে থাকা তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি।

কলকাতা পৌরসভার মেয়র এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ফিরহাদ হাকিম তার নিজের দুর্গ কলকাতা বন্দর আসনে আবারও জয়ী হয়েছেন।

কলকাতার উন্নয়নের কারিগর হিসেবে পরিচিত এই নেতা সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যেই জনপ্রিয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত ফিরহাদ প্রশাসনিক দক্ষতা ও সাংগঠনিক শক্তির জোরে প্রতিপক্ষকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

ফিরহাদ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির রাকেশ সিংয়ের থেকে ৫৬ হাজার ৮০টি বেশি ভোটে এগিয়ে জয়ী হন ফিরহাদ। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১ হাজার ২২৬।

মুর্শিদাবাদের নওদা ও রেজিনগর দুটি আসনেই জয় পেয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবির। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দুই আসনেই বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

নওদা আসনে হুমায়ুন কবীর পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৪৬৩ ভোট। বিজেপি প্রার্থী রাণা মণ্ডলকে তিনি ২৭ হাজার ৯৪৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। রেজিনগর আসনে তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৩৬। যেখানে বিজেপি প্রার্থী বাপন ঘোষের থেকে তিনি ৫৮ হাজার ৮৭৬ ভোটে এগিয়ে ছিলেন।

ভোটের আগে থেকেই হুমায়ুন কবীর ছিলেন রাজ্যের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে স্থাপত্য নির্মাণ এবং নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে তিনি ব্যাপক আলোচনার তৈরি করেন।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর উগ্রহিন্দুত্ববাদীরা অযোধ্যার বাবরি মসজিদটি ভেঙে ফেলে। আর সে দিনটির স্মরণ করেই ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে নতুন বাবরি মসজিদের কাজ শুরু করেন তিনি।

একসময় কংগ্রেস ও পরে তৃণমূলের বিধায়ক থাকা হুমায়ুন দল থেকে বহিষ্কারের পর ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করেন এবং সেই দল থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনের আগে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমঝোতা ও দলীয় ভাঙনের অভিযোগও ওঠে।

বীরভূমের হাসন থেকে এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন ফয়জুল হক (কাজল শেখ)। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ২২৩টি। তার নিকটতম প্রতিপক্ষ বিজেপির নিকিল ব্যানার্জীকে ২৮ হাজার ২৯৮ ভোটের ব্যাবধানে হারিয়েছেন।

উত্তরবঙ্গে যেখানে বিজেপি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে, সেখানে ফয়জল হকের জয় তৃণমূলের জন্য বড় প্রাপ্তি। স্থানীয় পর্যায়ে জনসেবা এবং বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে তার অবদানের কারণে ভোটাররা তার ওপর আস্থা রেখেছেন।

ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) নেতা নওশাদ সিদ্দিকী এবারের নির্বাচনে অন্যতম বড় চমক। ভাঙড় আসনে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের ব্যাপক দাপট থাকা সত্ত্বেও পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর ভাই নওশাদ নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।

আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শওকত মোল্লাকে ২৮ হাজার ৩১৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পেছনে ফেলে জয়ী হয়েছেন। বাম-কংগ্রেস জোটের বিপর্যয়ের মাঝেও আইএসএফের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বিধানসভায় প্রবেশ করছেন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়