শুক্রবার, মে ৮, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেনতুন উপশহর ও দুটি আবাসিক এলাকা গড়তে চায় সিডিএ

নতুন উপশহর ও দুটি আবাসিক এলাকা গড়তে চায় সিডিএ

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

একটি উপশহর এবং দুইটি পৃথক আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সিডিএ। প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প তিনটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর আবাসন সংকট নিরসনের পাশাপাশি শহরের উপর চাপও কিছুটা কমানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আবাসিক এলাকা গড়ে তুলে নাগরিকদের মাঝে প্লট বরাদ্দ দেয়া। একটি পরিকল্পিত নগরায়নের জন্য পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। কিন্তু সিডিএ বহু বছর কোনো আবাসিক এলাকা গড়ে তোলেনি। নগরবাসীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হলেও বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল।

এই বন্ধ্যাত্ব ঘুচিয়ে মধ্যবিত্ত শ্রেণির আবাসন সমস্যা নিরসনের উদ্দেশ্যে সিডিএ তিনটি বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে দুইটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা এবং একটি উপশহর। অনুন্নত বা পতিত জমিকে উন্নয়নের মাধ্যমে সিডিএ আবাসিক এলাকা হিসাবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে– যাতে তুলনামূলক কম খরচে আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা যায়। এরমধ্যে পতেঙ্গা এলাকায় ‘বে পার্ল আবাসিক এলাকা’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১৯.৫৫ একর জমিতে বিভিন্ন আকারের প্লট নির্মাণ করে জনগণকে বরাদ্দ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে ডিপিপি।

অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পটির ব্যাপারে আগ্রহ দেখানো হয়েছে, তবে এটি সিডিএর জন্য লাভজনক হবে কিনা তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় কিছুটা পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে বলে উল্লেখ করে সূত্র বলেছে যে, সিডিএ শুধু লাভ নয়, নগরবাসীর সার্বিক জীবনযাত্রার উন্নয়নের ব্যাপারটি মাথায় রেখে প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে। তবুও মন্ত্রণালয় যে সব বিষয়ে জানতে চেয়েছে সেগুলো যথাযথভাবে জানানো হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পতেঙ্গার সাগরপাড়ে চমৎকার একটি আবাসিক এলাকা গড়ে উঠবে। এই প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪৬ কোটি ৫৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নকালে এই খরচ আরো বাড়তে পারে বলেও সূত্র জানায়।

একইভাবে নগরীর বায়েজিদ লিংক রোড সংলগ্ন পাহাড়ঘেরা চমৎকার এলাকাটির বহু জমি নানাভাবে বেহাত হয়ে গেছে। এসব জমি উদ্ধার করে ‘নিসর্গ আবাসিক এলাকা’ নামে আলাদা একটি আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সিডিএ। বায়েজিদ লিংক রোড সংলগ্ন ১১৩.৮৯ একর ভূমির উপর ‘নিসর্গ আবাসিক এলাকা’ গড়ে তোলার ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হচ্ছে। এখানে পাহাড়কে ঠিক পাহাড়ের মতো রেখে বিভিন্ন সাইজের প্লট তৈরি করে বরাদ্দ দেয়া হবে।

বাস্তবায়িত হলে এই আবাসিক এলাকাকে নগরীর একটি অনন্য জনপদে পরিণত করা সম্ভব বলেও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও এই প্রকল্পের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে। এই আবাসিক এলাকা গড়ে তুলতে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৮২৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও সূত্র জানিয়েছে।

সিডিএ নগরীর উপকণ্ঠে একটি উপশহর গড়ে তুলতে চায়। যাতে শহরের উপর চাপ কিছুটা কমে আসে। এই উপশহর গড়ার জন্য সিডিএ ‘ডেভলপমেন্ট অব ফতেয়াবাদ নিউ টাউন ইন চট্টগ্রাম’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সিডিএ।

প্রকল্পটির মাধ্যমে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত অকৃষি উঁচু জমিতে পাহাড় সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন রেখে পাহাড়ের পাদদেশে জলাধার নির্মাণ, মূল শহরের উপর চাপ কমানো, ইকোলজিক্যাল এবং টেকসই পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত সেলফ সাসটেইনড একটি নতুন উপশহর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এতে অন্তত ৫ লক্ষ লোকের আবাসন সুনিশ্চিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডি শুরু করা হয়েছে। শহরের উপকণ্ঠে এই উপশহরে শহরের সব সুযোগ সুবিধা থাকবে বলে জানিয়ে সূত্র বলেছে যে, প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৩৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮ হাজার টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শহরের বহু লোকই হাটহাজারীর ফতেহাবাদস্থ উক্ত উপশহরে বসবাসের সুযোগ পাবে।

এ ব্যাপারে সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ নুরুল করিম বলেন, আমরা দুইটি আবাসিক এলাকা এবং একটি উপশহর গড়ে তোলার প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এগুলোর ফিজিবিলিটি স্টাডি করে আমরা দেখেছি যে, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে তা নগরজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়