প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণরত ‘এমভি হোন্ডিয়াস’ নামক একটি প্রমোদতরীতে ছড়িয়ে পড়েছে বিরল এবং প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে তিনজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা লক্ষণ প্রকাশের সময়সীমা দীর্ঘ হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
হান্টাভাইরাস কী?
এটি একটি বিরল শ্বাসযন্ত্রের রোগ যা সাধারণত ইঁদুরের মলমূত্র বা লালার সংস্পর্শে ছড়ায়। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, হার্টের সমস্যা এবং রক্তক্ষরণজনিত জ্বর হতে পারে। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক নেই।
যেভাবে ছড়ালো এই ভাইরাস
তদন্তে জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে জাহাজটি ছাড়ার আগে একজন যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। সাধারণত ইঁদুরের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ালেও, এই নির্দিষ্ট ‘আন্দিজ স্ট্রেইনটি’ মানুষের শরীর থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে সক্ষম। জাহাজটি যখন আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছিল, তখনই এটি অন্যান্য যাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
হতাহত ও বর্তমান পরিস্থিতি
এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রথম মারা যান এক ডাচ (নেদারল্যান্ডস) নাগরিক, যার মরদেহ সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নামানো হয়। পরে তার স্ত্রী দক্ষিণ আফ্রিকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গত ২ মে জাহাজে থাকা এক জার্মান নারী পর্যটকও প্রাণ হারান।
এছাড়া পাঁচজন নিশ্চিত এবং তিনজন সম্ভাব্য আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে ব্রিটেন, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় রোগীদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
জাহাজটি বর্তমানে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে এগোচ্ছে। জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে জাহাজে থাকা আর কারও মধ্যে নতুন করে কোনো উপসর্গ দেখা দেয়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও প্রশাসনের বক্তব্য
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, এই ভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ পেতে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, তাই আরও কিছু কেস আসার সম্ভাবনা আছে। তবে সব দেশ মিলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করলে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই বিষয়ে ব্রিফিং নিয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
সূত্র: এনডিটিভি


