প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি বেরিয়ে নিখোঁজ হয়েছে চার স্কুলছাত্রী। ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবারগুলোর মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। পুলিশ বলছে, নিখোঁজ ছাত্রীদের উদ্ধারে চলছে সর্বোচ্চ চেষ্টা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (১০ মে) সকালে উপজেলার নাজিরপুর-তাতেরকাঠি ইউনিয়নের নিজ নিজ বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় তারা। পরে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলো সানজিদা আক্তার (১২), ইসমত জেরিন (১২), সানজিদা আক্তার রায়সা (১৩) ও আয়শা আক্তার (১৫)। এদের মধ্যে সানজিদা আক্তার ও ইসমত জেরিন নাজিরপুর ছোট ডালিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে সানজিদা আক্তার রায়সা। আর আয়শা আক্তার অন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় তারা। তবে এর পর থেকেই আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না তাদের। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি কোনো তথ্য।
নাজিরপুর ছোট ডালিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ওইদিন তিন শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিল। পরে অভিভাবকদের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন, ওই ছাত্রীরা স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বের হয়েছিল বাড়ি থেকে। এরপর সহপাঠী ও পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়া হলেও তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্যরা জানালেন, প্রথমে বিদ্যালয় ও আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ চালানো হয়। কোথাও সন্ধান না পেয়ে রাতে জিডি করা হয় বাউফল থানায়।
জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গোলাম মোস্তফা বলেছেন, নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের কারও কাছে মোবাইল ফোন নেই। ফলে প্রযুক্তির মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও বাস, লঞ্চসহ বিভিন্ন যাতায়াতমাধ্যমে চালানো হচ্ছে অনুসন্ধান।
বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম গতকাল সোমবার জানালেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নিখোঁজ চার শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তিনি বলেছেন, ‘অভিযান অব্যাহত আছে। সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা গেছে, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’


