মঙ্গলবার, মে ১৯, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেনিষ্ক্রিয় হিসাবে ৫৩ কোটি টাকা, দাবিদার খুঁজছে ব্যাংক

নিষ্ক্রিয় হিসাবে ৫৩ কোটি টাকা, দাবিদার খুঁজছে ব্যাংক

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

দেশের ব্যাংকগুলোতে ক্রমেই বাড়ছে এমন এক ধরনের অর্থ, যার মালিকানা থাকলেও নেই কোনো খোঁজখবর। দীর্ঘদিন ধরে লেনদেনবিহীন থাকা এসব হিসাবে জমে আছে কোটি কোটি টাকা।

দাবিদার সামনে না আসায় এই হিসাবগুলোর টাকা ‘অদাবীকৃত আমানত’-এ পরিণত হচ্ছে। সর্বশেষ হিসাবে অন্তত ৫৩ কোটি টাকার এমন আমানতের মালিক খুঁজছে ব্যাংকগুলো।

ব্যাংকারদের মতে, গ্রাহকের মৃত্যু, বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস, ঠিকানা বা যোগাযোগের তথ্য পরিবর্তন—এসব কারণে অনেক হিসাব দীর্ঘদিন অচল হয়ে পড়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার-পরিজনও জানে না যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে কোনো ব্যাংক আমানত রয়েছে।

ফলে এসব হিসাব বছরের পর বছর নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থেকে যায়।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো হিসাবে টানা ১০ বছর লেনদেন না থাকলে সেটিকে অদাবীকৃত আমানত হিসেবে গণ্য করা হয়। এরপর গ্রাহকের তথ্য প্রকাশ করে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দাবির সুযোগ দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে কেউ বৈধ প্রমাণসহ দাবি করলে সংশ্লিষ্ট অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে এসব অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হয় এবং পরে সরকারের কোষাগারে স্থানান্তরিত হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩৩টি ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্যে স্থানীয় ও বৈদেশিক মুদ্রা মিলিয়ে দাবিহীন আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩ কোটি টাকা। বাকি ২৮টি ব্যাংকের তথ্য যুক্ত হলে এই অঙ্ক শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ব্যাংকগুলো জানায়, এসব অর্থ জমা দেওয়ার আগে গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগের বিভিন্ন চেষ্টা করা হয়—চিঠি, এসএমএস, ই-মেইলসহ বিভিন্ন মাধ্যমে। পাশাপাশি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও ওয়েবসাইটেও তথ্য প্রকাশ করা হয়, যাতে প্রকৃত দাবিদাররা এগিয়ে আসতে পারেন।

এ বিষয়ে বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাব ছাড়া কোনো গ্রাহক টানা ১০ বছর লেনদেন না করলে সেই হিসাব দাবিহীন হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা এসব অদাবীকৃত আমানত, বৈদেশিক মুদ্রা, চেক, ড্রাফট ও মূল্যবান সামগ্রী নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হয়। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের মৃত্যু, ঠিকানা পরিবর্তন বা যোগাযোগের তথ্য হালনাগাদ না থাকায় ব্যাংকের পক্ষে হিসাবধারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে অর্থ হস্তান্তরের আগে আমরা গ্রাহকের ঠিকানায় চিঠি পাঠাই, এসএমএস ও ই-মেইলের মাধ্যমেও যোগাযোগের চেষ্টা করি। এর পরও কোনো সাড়া না পেলে নিয়ম অনুযায়ী অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। পরে কোনো গ্রাহক বা উত্তরাধিকারী দাবি করলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

জানা গেছে, প্রতিবছর এপ্রিলে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে অদাবীকৃত আমানত জমা নেয়। এবার নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ৩৩টি ব্যাংক তাদের অদাবীকৃত আমানতের অর্থ জমা করেছে। অন্যগুলোর মধ্যে ১০টি ব্যাংক অদাবীকৃত অর্থ জমার জন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে। বাকি ১৮টি ব্যাংক অদ্যাবধি এসব আমানতের অর্থ জমা প্রদান করেনি। অভিযোগ আছে, আলোচ্য ব্যাংকগুলো বছরের পর বছর ধরে নিজস্ব সম্পদ হিসেবে এসব অর্থ ব্যবহার করছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এ ধরনের অর্থ প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারের নির্ধারিত হিসাবে জমা দেওয়া হয়। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে আমানতকারীরা পরবর্তী সময়ে দাবি করলে ব্যাংক সেই অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত দিতে বাধ্য থাকে। ব্যাংক গ্রাহককে অর্থ পরিশোধ করার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারের হিসাব থেকে আবার সেই টাকা ব্যাংকের কাছে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, স্থানীয় ও বৈদেশিক মুদ্রা মিলে ৩৩টি ব্যাংকের অদাবীকৃত আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় অদাবীকৃত আমানতের পরিমাণ ৪৯ কোটি আট লাখ ৬০ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া মার্কিন ডলারে প্রায় চার কোটি ৪৮ হাজার ১৭০ টাকা (তিন লাখ ২৬ হাজার ২৫৮ ডলার), পাউন্ডে ২৭ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭৮ টাকা (৪৬ হাজার ৪৮৬ পাউন্ড) এবং ইউরোতে আছে সাত লাখ ৫৮ হাজার ৪৪০ টাকা (পাঁচ হাজার ২৭৫ ইউরো)।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দাবিহীন আমানতের তালিকায় শীর্ষে সিটি ব্যাংক এনএ। এর সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ কোটি টাকার দাবিহীন আমানত রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে ব্র্যাক ব্যাংকে রয়েছে প্রায় আট কোটি টাকা। এ ছাড়া এইচএসবিসির প্রায় ছয় কোটি টাকা, ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা এবং সিটি ব্যাংকের প্রায় তিন কোটি টাকার দাবিহীন আমানত রয়েছে। এসব আমানতের বড় অংশই দীর্ঘদিন অচল থাকা সঞ্চয়ী হিসাব, এফডিআর ও বিভিন্ন ডিপোজিট স্কিমে জমা টাকার হিসাব।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়