প্রাইম ভিশন ডেস্ক
সকালে ঘুম থেকে উঠেই টুথব্রাশে খানিকটা পেস্ট ঘষে নেওয়া আমাদের প্রতিদিনের চেনা অভ্যাসের অংশ। কিন্তু চকচকে এই পেস্টের টিউবের উপাদান নিয়ে খুব কম মানুষই ভাবেন। প্রতিদিন সকালে দাঁত পরিষ্কার করতে গিয়ে অজান্তেই শরীরে বিষ ঢুকছে না তো?
সম্প্রতি এক গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর শুরু হয়েছে নতুন উদ্বেগ। কিন্তু প্রশ্ন হলো দৈনন্দিন ব্যবহারের সব টুথপেস্টেই কি লুকিয়ে আছে এই অদৃশ্য প্লাস্টিক? আর নিয়মিত তা শরীরে প্রবেশ করলে মানবদেহে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলতে পারে?
দেশে পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সংখ্যা ছিল ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত। শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) নতুন গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকেরা বলছেন, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অনুযায়ী মাইক্রোপ্লাস্টিক শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা, হৃদ্রোগ-সংবহনতন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এর সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যে রয়েছে প্রদাহ, অঙ্গের ক্ষতি, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, প্রজননক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ভ্রূণের বিকাশে বিরূপ প্রভাব।
গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, টুথপেস্ট থেকে নির্গত মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশে ছড়িয়ে খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে।
গবেষণার অংশ হিসেবে ২ হাজার ৭৬০ জনের ওপর পরিচালিত জরিপে ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তারা কখনো মাইক্রোপ্লাস্টিক সম্পর্কে শোনেননি। ২৭ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা মাইক্রোপ্লাস্টিক সম্পর্কে সচেতন।
ইএসডিওর মহাসচিব শাহরিয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, কাঁচামালের খরচ কমানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়।


