প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রেও নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। এসব জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশকারী ও পুশব্যাক নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ভারতে বেআইনিভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ যে কোনও বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কাউকে ফেরত পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই করা হয়। সেই কারণে তথ্য ও নথি বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয় এবং যাচাই সম্পূর্ণ হওয়ার পরই প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া এগোয়।
তার দাবি, এ ধরনের বহু আবেদন এখনও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিবেচনাধীন। সেগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হলে অবৈধভাবে ভারতে থাকা বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর কাজ আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে একাধিক মানবাধিকার সংগঠন। তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন অংশে প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বহু মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। বিশেষ করে সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় বসবাসকারী মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
মানবাধিকার কর্মী অরবিন্দ ভট্টাচার্য বলেছেন, সীমান্তে আটকে পড়া মানুষের মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিদের জন্য দ্রুত সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও আপত্তি জানানো হয়েছে। ঢাকা বারবার বলছে, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।


