প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকায় ১২ বছর বয়সি ছেলের সামনে সানজিদা আক্তার রেশমি নামে এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর শফিউল আলম সওদাগরের স্ত্রী ইয়াসমিনসহ আরও কয়েকজন নারী বুধবার রাতে সানজিদার বাসায় যান। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সানজিদার ওপর হামলা চালান।
ঘটনার সময় বাসায় থাকা সানজিদার ছেলে সাব্বিরের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। স্থানীয়রা কয়েকজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে গুরুতর আহত সানজিদাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে সাব্বির কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, ঘটনার সময় সে ও তার মা বাসায় ছিলেন। এছাড়া আরও দুজন পুরুষ সেখানে অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে একজনকে সে শফিউল আলম সওদাগর হিসেবে চিনতে পেরেছে। পরে কয়েকজন নারী বাসায় ঢুকে তার মায়ের ওপর হামলা চালায় এবং ছুরিকাঘাত করে।
নিহতের বাসায় কর্মরত আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, পূর্বের পারিবারিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। কয়েকজনের প্ররোচনায় সংঘবদ্ধভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রতিবেশী সোহাগ জানান, চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
স্থানীয় সমাজকর্মী ডালিম ও রিয়াদ জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে অবহিত করেন এবং আহত সানজিদাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। নিহতের নিকটাত্মীয়রা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় স্থানীয়রাই উদ্ধার কার্যক্রমে এগিয়ে আসেন। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালে উপস্থিত নিহতের সাবেক স্বামী ইমন কন্ট্রাক্টর বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি আগে কিছু জানতেন না। খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছেন। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্ত তিন নারীকে আটক করেছে।
তিনি বলেন, স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রেশমির সঙ্গে শফিউল আলম সওদাগরের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করতেন তার স্ত্রী ইয়াসমিন। এ সন্দেহের জেরে ইয়াসমিন আরও কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে রেশমির বাসায় যান। সেখানে রেশমির সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ইয়াসমিন ছুরিকাঘাত করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ওসি আরও বলেন, আহত অবস্থায় রেশমিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


