Friday, July 10, 2026
spot_img
Homeএই মুহুর্তেইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা, জবাবে কুয়েত–বাহরাইনে পাল্টা হামলা তেহরানের

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা, জবাবে কুয়েত–বাহরাইনে পাল্টা হামলা তেহরানের

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

ইরানে ফের নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। বুধবার তারা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই ইরানে নতুন এ হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশ কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা হামলা করেছে তেহরান। এতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার হরমুজ অতিক্রম করা তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য কমান্ড সেন্টকম এক এক্স পোস্টে লিখেছে, ‘হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার প্রতি ইরানের হুমকির সক্ষমতা আরও কমিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত হামলা শুরু করেছে।’

সেন্টকম আরও জানায়, ‘গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অযৌক্তিক আগ্রাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনছে।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কয়েকটি শহর কেঁপে ওঠে এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জবাবে ইরান টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা চালায়। উপসাগরীয় দেশ দুটিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে। এদিকে কাতার কিছু সময়ের জন্য ‘উচ্চ নিরাপত্তা হুমকি’-এর সতর্কতা জারি করলেও পরে পরিস্থিতি নিরাপদ বলে জানায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, বুধবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সংখ্যা মঙ্গলবারের হামলার চেয়ে বেশি হবে।

ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘গতকাল জাহাজে ইরানের বোমা হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এটি করা হচ্ছে। আবার এমন হলে পরিস্থিতি আরও অনেক খারাপ হবে!’

যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই যেত, আর এখন সেটির নিয়ন্ত্রণ তেহরানকে বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা দিয়েছে। এর ফলেই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে অচলাবস্থা তৈরি করার সক্ষমতা পেয়েছে দেশটি।

এদিকে, জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করেনি ইরান। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় সুবিধা পেতে তেহরান এমন পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারে।

ইরানের পক্ষে প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্সে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এখনো বুঝতে পারেনি যে, দাদাগিরি ও অঙ্গীকার ভঙ্গের মূল্য আর না দিয়ে পার পাওয়া যাবে না। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই: আপনারা আঘাত করলে পাল্টা আঘাত পাবেন।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি কেবল ইরানের ব্যবস্থাপনার অধীনেই পুনরায় খুলবে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে নয়।’

সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলায় ১৭ জুন সই হওয়া সমঝোতা স্মারককে যুদ্ধ অবসানের স্থায়ী চুক্তিতে রূপ দেওয়ার আশা আরও ম্লান হয়ে গেছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়