প্রাইম ভিশন ডেস্ক
তথ্যের প্রাচুর্যের এই যুগে দীর্ঘায়ু অর্জনকে আমরা অনেকেই কঠিন একটি স্বাস্থ্যগত লক্ষ্য বলে মনে করি। তবে হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নিয়মিতভাবে চর্চা করা গেলে জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার পাশাপাশি আয়ুও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
দীর্ঘায়ুর তিন চাবিকাঠি
বিশেষজ্ঞরা জানান, নির্দিষ্ট কিছু কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণ করলে তা মানুষের আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। তাদের মতে, দীর্ঘায়ুর জন্য উপকারী এসব শখকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়—শারীরিক সক্রিয়তা, মস্তিষ্কের চর্চা এবং সামাজিক যোগাযোগ।
১. শারীরিক সক্রিয়তা
প্রথমত, এমন কোনো শখ বেছে নেওয়া উচিত, যা শরীরকে সক্রিয় রাখে। এর মধ্যে হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা, বাগান করা, গলফ, টেনিস কিংবা অন্য যে কোনো খেলাধুলা থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ১৮ হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা এ ধরনের শারীরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি দিন বেঁচেছেন। গবেষণায় হাঁটা, সাইকেল চালানো ও দৌড়ানোর মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
২. মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখা
দ্বিতীয় ধরনের শখ হলো এমন কাজ, যা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। বিশেষজ্ঞরা এ ক্ষেত্রে নিয়মিত বই পড়া, লেখালেখি, ছবি আঁকা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, কিংবা ছবি তোলার মতো কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন।
তার মতে, এসব কাজ নিয়মিতভাবে করা মানসিকভাবে সক্রিয় থাকতে সহায়তা করতে পারে।
৩. অন্যদের সঙ্গে করা শখ
তৃতীয়ত, অন্য মানুষের সঙ্গে করা যায়—এমন শখের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। অন্য মানুষের সঙ্গে কোনো কাজ করলে প্রথম দুই ধরনের শখের সুফলও আরও বাড়তে পারে। অন্যদের সঙ্গ যোগ হলে শারীরিক ও মানসিক—দুই ধরনের কর্মকাণ্ডের উপকারিতা আরও শক্তিশালী হয়।
তিনটিকে একসঙ্গে করলে সুফল আরও বেশি
বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরিক সক্রিয়তা, মানসিক চর্চা ও সামাজিক যোগাযোগ—এই তিন ধরনের শখ একসঙ্গে করলে এর সুফল আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, একটি ভালো, দুটি আরও ভালো, আর তিনটি সবচেয়ে ভালো।
দীর্ঘায়ু নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ও পরামর্শে মানুষ যখন বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, তখন নিজের পছন্দের এবং আনন্দদায়ক কাজগুলোই যে স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, সেটি জানা স্বস্তিদায়ক বলেও জানান তারা।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


