সরকারি দপ্তরে জমা পড়া প্রতিটি আবেদনই যেন একেকটি জীবনের গল্প। কারও ক্যানসারের চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম, কেউ সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস করান, কেউ প্যারালাইসিসে হারিয়েছেন উপার্জনের ক্ষমতা।
আবার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা জয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও অর্থাভাবে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এক শিক্ষার্থী।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে সরাসরি ২১ জন সেবাপ্রত্যাশী তাঁদের এসব সংকটের কথা তুলে ধরেন।
প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের অনেককে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অসহায় ছিলেন ইয়াসমিন আক্তার। স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। ঘরে তিন সন্তান।
সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ভাড়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে সন্তানদের নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।
ইয়াসমিনের কথা শুনে তাঁর স্বামীর চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন জেলা প্রশাসক। দেওয়া হয় চাল, ডাল, তেলসহ খাদ্যসামগ্রী ও উপহার। সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্যও তাঁকে উৎসাহ দেওয়া হয়।
ইয়াসমিনের সংগ্রামের গল্প শুনে নিজের কার্যালয় থেকে নিচে নেমে তার অটোরিকশার পাশে দাঁড়ান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘এত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তুমি কারও কাছে হাত পাতোনি, কারও কাছে ছোট হওনি। তুমি নিজেই একটা অটো নিয়েছো, অটো নিয়ে পরিশ্রম করে চলছো—এটা খুবই ভালো।’
এদিন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওমর ফারুককেও উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছেন কিডনি রোগী ইফফাত জাহান ইশা, ক্যানসার আক্রান্ত মো. নাজমুল হুদাসহ আরও কয়েকজন।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘একটি আবেদন গ্রহণের পর সেটি কোথায় গেল, কী সিদ্ধান্ত হলো এবং তার ফলাফল কী—সেবাপ্রত্যাশী যেন সেটি জানতে পারেন, সেটিও আমাদের দায়িত্ব।’


