প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
‘মেয়েকে নিয়ে আমি পাগলের মতো এই হাসপাতাল ওই হাসপাতাল ঘুরেছি। মেডিকেল সেন্টার, মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, সার্জিস্কোপ, মা ও শিশু হাসপাতাল কোথাও আইসিইউ খালি পাইনি। শেষপর্যন্ত বাধ্য হয়ে ইমপেরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। তার পরও কলিজাকে বাঁচাতে পারিনি।’ চলতি মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সাত বছরের মেয়ে অনুশ্রী দাশকে হারিয়ে এভাবে আর্তনাদ করছিলেন সুবল চন্দ্র দাশ শুভ। তার ডেঙ্গু হয়েছিল।
গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ইমপেরিয়াল হাসপাতালে মারা যায় সে। রাতেই তাকে সীতাকুণ্ডের শংকর মঠের মহাশ্মশানে সৎকার করা হয়। মেয়ের অসুস্থতার পর থেকে উদ্বিগ্ন ছিলেন বাবা সুবল। জ্বর আক্রান্ত হওয়ার পর ১৪ সেপ্টেম্বর অনুশ্রীকে প্রথম স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সুবল বলেন, ‘মেয়ের পরীক্ষার রিপোর্ট ভালো ছিল। কিন্তু মুখে খেতে পারছিল না। শুক্রবার তাকে ডায়াবেটিস হাসপাতালে ভর্তি করি। বিকেলে রিপোর্টে প্লাটিলেট কমে সাড়ে ২৩ হাজারে দাঁড়ায়। তখন ডাক্তাররা বললেন, তাকে শিশুদের আইসিইউতে ভর্তি করতে হবে।’
সুবল চন্দ্র মেয়েকে নিয়ে ডায়াবেটিস হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে পড়েন আইসিইউর জন্য। তিন চারটি হাসপাতাল ঘুরেও তিনি আইসিইউ পাননি। পরে বাধ্য হয়ে ইমপেরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করায়।
শনিবার বেলা ৩টা ২২ মিনিটে সুবল চন্দ্র দাশ আবার স্ট্যাটাস দেন, ‘আমার অনুশ্রী লাইফ সাপোর্টে।’
দুই ঘণ্টা পর সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় সুবল মেয়ের মৃত্যুসংবাদ সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরেন, ‘আমার মেয়ে অনুশ্রী আর নেই।’


