Homeমুল পাতাতাজমীন হত্যাকাণ্ড: সুমনের দেওয়া তথ্যে মোবাইল উদ্ধার

তাজমীন হত্যাকাণ্ড: সুমনের দেওয়া তথ্যে মোবাইল উদ্ধার

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর জান্নাতুম তাজমীন হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন সিএনজিচালক সুমনকে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমীনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে শুক্রবার বিকালে সুমনকে কুমিল্লায় আনা হয়।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। প্রধান সন্দেহভাজন সিএনজিচালক সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে থানা পুলিশ ও ডিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ আশপাশের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করছেন। তাজমীনের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বান্ধবীসহ সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

পুলিশ সূত্র জানায়, তাজমীনের মৃত্যুর পর থেকে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে নজরদারি চালানো হচ্ছে। সন্দেহভাজন সুমন মোবাইল ফোনে যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হতে পারে।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস সিএনজিচালক সুমনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন সুমনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত এখনও চলছে। সুমনকে কুমিল্লায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। হত্যার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে পরিচয় নিশ্চিত হয়। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ্ বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়। তাজমিনের শরীরে আঘাতের দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন ছিল না। তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ কাজ করছে। হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমনের খালা শাশুড়ি, বোন ও বোনজামাইকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তাদের সহায়তায় সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, সুমন প্রায়ই রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও আশপাশের এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। তার নিজস্ব বাড়ি নেই। তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নেশাগ্রস্ত।

বৃহস্পতিবার ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পাশে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে ছিল।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সকালে কাঁচিকাটা-হরিশ্চর পাকা সড়কের জগতপুর উত্তরপাড়া এলাকার মানুমুড়া সংলগ্ন স্থানে অটোরিকশাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তারা। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমির আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ দেখতে পান। তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল এবং মুখ মাটিতে চেপে রাখা অবস্থায় ছিল।

খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সিআইডি ও পিবিআইসহ পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়