প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে প্রমার আয়োজনে আবৃত্তিশিল্পী মনজুর মুন্নার একক আবৃত্তিসন্ধ্যা আয়োজনটি সফল ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় টানা দুই ঘন্টা হলভর্তি শ্রোতাদের আবৃত্তির ঘোরে রেখে তিনি প্রমাণ করেছেন, আবৃত্তিশিল্পও একটা সমৃদ্ধ মাধ্যম যা শ্রোতার মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে। একটি একক আবৃত্তিসন্ধ্যা শ্রোতাদের উপহার দিতে তিনি সাংগঠনিক আবৃত্তি চর্চায় বিশ বছর সময় নিয়েছেন।
প্রতিটা আবৃত্তি পরিবেশনায় শিল্পী তার সাধনা ও চর্চার যথেষ্ঠ প্রমাণ রেখেছেন। চট্টগ্রামে এই অনুষ্ঠানটিই বোধহয় প্রথম যেখানে টানা দুই ঘন্টা একজন শিল্পীর পরিবেশনা শুনেছেন হলভর্তি শ্রোতা, পূর্ণ মনোযোগে। এখানেই একজন শিল্পীর স্বার্থকতা। শিল্পীর পরিবেশনার প্রতিটা কবিতায় ফুটে উঠেছে প্রকৃতি, প্রেম, জীবনবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের বিষয়। এবং প্রতিটা বিষয়ভিত্তিক কবিতায় দর্শক শ্রোতা একটি প্রকৃত প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়েছেন যা প্রতিটা পরিবেশনার পর তাঁদের করতালির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
গতানুগতিক অনুষ্ঠানের সাজসজ্জার বাইরে এসে মঞ্চসজ্জায় প্রমা আবৃত্তি সংগঠন ভিন্নতা এনেছে। যা
অনুষ্ঠানের শিরোনামের অর্থ বহন করে। এই ভিন্নমাত্রা যোগ করায় আবৃত্তি শুনেই নয় বরং কবিতার প্রতিটা শব্দ ছবি হয়ে দর্শকের সামনে এসেছে। এমন ভিন্নতার জন্য পার্থ প্রতিম মহাজন, সঞ্জীত কুমার দে, রূপশ্রী ভৌমিক, আবীর বড়ুয়া তুষার ধন্যবাদ পাওয়ার দাবীদার। অসাধারণ আলোক পরিকল্পনায় ফাইয়ায রাকিন নুরসহ সুমন বিশ্বাস, সৃজন রায় ও সারা বিশ্বাসের আবহ সঙ্গীতের মূর্ছনা হলভর্তি দর্শকদের বিমোহিত করেছে।
প্রমার সভাপতি রাশেদ হাসানের শুভেচ্ছা বক্তব্যে আবারো উচ্চারিত হলো একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজের বিনির্মাণের প্রত্যাশা। আবৃত্তি চর্চার মধ্যদিয়ে মানুষের কথা বলা, মানবতার কথা বলা, সম্প্রীতির কথা বলা। আবৃত্তিচর্চা যেন হয় মানুষকে ভালবাসার মাধ্যম, নিজের জীবনবোধকে শাণিত করার মাধ্যম।
স্বল্প সময়ের বক্তব্যে কবি বিশ্বজিৎ চৌধুরী, কবি সেলিনা শেলী, কবি ওমর কায়সারও একই কথা বললেন, যেখানে মানুষকে ভালবাসার রসদই থাকে প্রতিটা চর্চায়। স্বরনন্দন এর সুমন বিশ্বাস বরাবরের মতোই বিনয়ী সুলভ বক্তব্য রাখলেন। প্রমার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পাল এর সঞ্চালনায় আয়োজনটি আরো প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। একে একে মনজুর মুন্না আবৃত্তি করেন আনিসুল হক (মা উপন্যাসের অংশবিশেষ), আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (রূপকথা-৩), ইয়াসিন রহমান রিপন (টেলেক্স), কাজী নজরুল ইসলাম (ঈশ্বর), জয়দেব বসু (ভারত এক খোঁজ), জীবনানন্দ দাশ (অন্ধকার), টোকন ঠাকুর (মহাকাব্যের ট্র্যাজেডি), বিনয় মজুমদার (ঈশ্বরের ভাগ্য), বিশ্বজিৎ চৌধুরী (আমি কেন আর হাত দেখি না), ভাস্কর মিত্র (নাগা পাহাড়ে বর্ষা), মো. আব্দুর রউফ ববিন (একাত্তরের চিঠি), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পায়ে চলার পথ, উদবোধন), লতিফুল ইসলাম শিবলী (প্যারিসের চিঠি), সব্যসাচী দেব (কর্ণ), সমর সেন (চার অধ্যায়)-সহ ১৬টি কবিতা।
সর্বোপরি শিল্পী মনজুর মুন্নার এই আয়োজনটি স্মরনীয় হয়ে থাকবে শুধুমাত্র আবৃত্তি শিল্পের প্রতি তার ভালবাসার জন্য। অনুষ্ঠান ভাবনা ও নির্দেশনায় ছিলেন রাশেদ হাসান এবং বিশ্বজিৎ পাল। সহযোগিতায় ছিলেন স্বপন দাশ, নাজমুল আলিম সাদেকী, আচরারুল হক, মামুরা মমতজ দীপা


