প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরে আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ৩ ঘণ্টা ধরে চলা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে দুই দলের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের শাপলা চত্বর ও আশপাশ এলাকায় শুরু হওয়া সংঘর্ষ চলে দুপুর প্রায় ১টা পর্যন্ত।
প্রায় তিন ঘণ্টা দুই দলের থেমে থেমে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পর প্রশাসন, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এর আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশ কয়েকবার টিয়ার শেল, ফাঁকা গুলি ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। তারপরও তিন ঘণ্টার জন্য খাগড়াছড়ি শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ উন্নয়ন শোভাযাত্রা এবং বিএনপি তাদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী পদযাত্রা বের করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। থেমে থেমে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক নুরুল আজম, মো. আলমাছ, ক্যজরী মারমাসহ ৮০-৯০ জন এবং জেলা বিএনপির সমবায় সম্পাদক মো. হোসেন বাবুসহ ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহত কয়েকজনকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এনেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, ’উন্নয়ন শোভাযাত্রায় অংশ নিতে আসার পথে বিএনপির ক্যাডাররা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় খাগড়াছড়ি পৌরসভাসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে বিএনপির লোকজন।’
এ ঘটনা প্রশাসনের নীরবতা বলে অভিযোগ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, ‘আমরা সরকারের উন্নয়নের কথা জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য আজকের শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রার কর্মসূচি বরে করি। কিন্তু বিএনপি আগে থেকে আমাদের কর্মীদের ধাওয়া করার জন্য প্রস্তুত ছিল। এ জেলায় সন্ত্রাসীদের আর সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদের ভদ্র ভাষায় বলি বলে তারা বোঝে নাই। তাদের সন্ত্রাসী ভাষায় মোকাবিলা করব। এ ধরনের সন্ত্রাস খাগড়াছড়িতে আর মাথাচাড়া দিতে পারবে না।’
পাল্টা হামলার অভিযোগ এনে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা আমাদের দলীয় কার্যালয়ে এসে হামলা করেছে। পুলিশ আমাদের দিকে তাক করে টিয়ার শেল মেরেছে, কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের কিছুই করেনি। এতে আমাদের ১০০ জনের ওপরে নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অনেক দলীয় কর্মী বিভিন্ন হাসাপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’


